kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

হেলেনাকে আরো ৭ দিনের রিমান্ডে চাইবে পুলিশ, দুপুরে তোলা হবে আদালতে

অনলাইন ডেস্ক   

৩ আগস্ট, ২০২১ ১২:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হেলেনাকে আরো ৭ দিনের রিমান্ডে চাইবে পুলিশ, দুপুরে তোলা হবে আদালতে

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীরকে পল্লবী থানায় দায়েরকৃত টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্টের মামলায় আরো সাত দিনের রিমান্ডে চাইবে পুলিশ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিনদিনের রিমান্ড শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হবে।

মঙ্গলবার (০১ আগস্ট) সকালে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জানিয়েছে, হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী হাজেরা খাতুন ও সানাউল্ল্যাহ নূরীকে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে ৩০ জুলাই গুলশান থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। পুলিশ ওই মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড চাইলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী ওই আদেশ দেন।

গত ২৯ জুলাই রাতে গুলশানের নিজ বাসা থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আটকের সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ক্যাসিনো সরঞ্জাম, হরিণের চামড়াও উদ্ধার করা হয় তার বাসা থেকে।

র‌্যাব জানায়, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম, ওয়াকিটকি, ড্রোন, হরিণের চামড়া, বিদেশি মদ, বৈদেশিক মুদ্রা, বিশেষ ছুরি ও কাঁচি, বিদেশি বিয়ার, কার্টন ভর্তি এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এরপর তাকে র‌্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়।

সম্প্রতি ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নাম আসায় তাকে আওয়ামী লীগের উপকমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। চার ঘণ্টার অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার ও বাসা থেকে বিদেশি মদ, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, চাকু, ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এরপর রাত দেড়টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের এ ব্লকের ৩ নম্বর রোডে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন জয়যাত্রা টেলিভিশনের কার্যালয়ে অভিযানে যায় র‌্যাব। সেখান থেকেও বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করার দাবি করেছে র‌্যাব।

এসব ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে হেলেনার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত রাজধানীর গুলশান ও পল্লবী থানায় মোট চারটি মামলা করেছে। এর মধ্যে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় করা দুটি মামলার মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে। গত রবিবার বিকালে গুলশান থানা থেকে মামলার তদন্তভার ডিবির স্পেশাল সাইবার ক্রাইম বিভাগে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে হেলেনা জাহাঙ্গীর উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মানহানি ও সুনাম নষ্ট করেছেন। তিনি মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেন। খ্যাতি লাভের আশায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানিত ব্যক্তিদের বিব্রত করতেন। অনৈতিকভাবে সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে খ্যাতনামা হিসেবে উপস্থাপন করতে চতুরতার আশ্রয় নিতেন তিনি। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করেছেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ফেসবুক লাইভে এসে অযাচিত ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিতেন। তদন্তে তার সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



সাতদিনের সেরা