kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

ভুঁইফোড় সংগঠন

ক্ষুব্ধ আ. লীগ নেতারা কঠোর ব্যবস্থা চান

তৈমুর ফারুক তুষার   

৩ আগস্ট, ২০২১ ০৪:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্ষুব্ধ আ. লীগ নেতারা কঠোর ব্যবস্থা চান

টানা তিন মেয়াদে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সময়কালে গজিয়ে ওঠা ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। সংগঠনগুলোর নামের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম জুড়ে দিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ায় নেতারা ভীষণ ক্ষুব্ধ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাইছেন তাঁরা। ওদিকে দলের এই কঠোর অবস্থানের কারণে এসব সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকরা এখন নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করছেন।

ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর বিষয়ে অবস্থান জানতে গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ডজনখানেক নেতার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। অপরাধের মাত্রা বুঝে পর্যায়ক্রমে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে যাঁরা নানা অপকর্মে জড়িয়েছেন তাঁদের প্রয়োজনে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদের থেকে ভুঁইফোড় সংগঠন আর পরিচালনা করবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় এসব নেতার মতে, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা, মন্ত্রী ও এমপি ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন তাঁরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। দল ও সরকারের পদে যাঁরা আছেন তাঁদের আরো সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে যেসব নেতা ও মন্ত্রী ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন তাঁরা এখন ওই সব সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করছেন। ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠানে দেখা যেত এমন কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁদের বেশির ভাগই কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

জননেত্রী পরিষদ, তরুণ লীগসহ আরো একাধিক ভুঁইফোড় সংগঠনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়েছেন এমন একজন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক আওয়ামী লীগ নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উনাকে (মন্ত্রী) ভুল বোঝানো হয়েছে। উনি যাঁদের প্রগ্রামে গিয়েছেন তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগেরই লোক। কিন্তু তাঁরা যে অপকর্মে লিপ্ত তা মন্ত্রী মহোদয় বুঝতে পারেননি।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সম্পাদককে কিছুদিন আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে দর্জি মনিরের জননেত্রী পরিষদের অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল। জানতে চাইলে ওই সম্পাদক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি মনিরকে চিনতাম না। পরিচিত একজনের সুপারিশে আমি ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। ওদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের সভাপতি মনির খান ওরফে দর্জি মনির গত রবিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী উপস্থিত থাকতেন। সংগঠনটির কমিটিতেও যুক্ত করা হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের। দর্জি মনিরের ফেসবুক প্রফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের সহসভাপতি হিসেবে সংগঠনে যুক্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর প্রয়াত সদস্য মোহাম্মদ সেলিমের পুত্র শেহরিন সেলিম রিপনকে। শরীয়তপুরের একটি পৌরসভার মেয়রকেও তিনি নিজের সংগঠনে যুক্ত করেন। দর্জি মনির গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদে যুক্ত হওয়ার সব ছবি ও নিউজ লিংক সরিয়ে ফেলেছেন ওই মেয়র।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, বেশ কয়েকটি ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই সব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের কয়েকজনের গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছে। কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভুঁইফোড় সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব সংগঠনকে কখনোই আমাদের দলীয় স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু আমাদের নেতাদের কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা দেন। এটা একেবারেই অনুচিত। যাঁরা আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা বা পরিবারের সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে এসব সংগঠন করেন আর যাঁরা এসবে পৃষ্ঠপোষকতা দেন তাঁদের সবার বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করি।’

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘যাঁরা এসব ভুঁইফোড় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং অপকর্মে যুক্ত হয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ আমরা শুরু করেছি। ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোকে সব সময় কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা উচিত। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আদর্শহীন ও অপকর্মকারীদের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।’



সাতদিনের সেরা