kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়া বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চান হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০২১ ১৮:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়া বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চান হাইকোর্ট

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চান হাইকোর্ট। আদালতের এই প্রত্যাশার কথা সংশ্লিস্টদের জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আদেশ দিচ্ছি না। আপনারা (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) সংশ্লিষ্টদের জানাবেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়ার বিষয়ে ৭২ ঘন্টার মধ্যে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসা প্রয়োজন। 

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে দাখিল করা রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে হাইকোর্ট তার প্রত্যাশার কথা রাষ্ট্রপক্ষকে জানান। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও বিপুল বাগমার। আদালত রিট আবেদনটির ওপর শুনানি মূলতবি করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার, অ্যাডভোকেট রাশিদা চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার মোজ্জাম্মেল হক জনস্বার্থে ৩১ জুলাই এই রিট আবেদন দাখিল করেন। এর আগে গত ২৯ জুলাই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এ বিষয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংঠন ল’ এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার এই নোটিশ দিয়েছিলেন। রিট আবেদনকারীদের মধ্যে অ্যাডভোকেট রাশিদা চৌধুরী নিজেই অন্তঃস্বত্ত্বা। রিট আবেদনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআর এর পরিচালককে বিবাদী করা হয়। 

গতকাল আদালতে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করে ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, এরইমধ্যে অন্তঃসত্ত্বা ডা. জারিন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানিয়া, ডা. হালিমাসহ অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাদের মৃত্যুর কারণে তাদের গর্ভজাত অনাগত সন্তানেরও মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮/৯ মাস ধরেই অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও টিকা দেওয়ার পক্ষে বলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলার পরও আমাদের দেশে গত ৯ মাসে এবিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারলো না। তিনি বলেন, শুধুই একেক জন নারীর মৃত্যু হচ্ছে না, সঙ্গে তাদের অনাগত সন্তানেরও মৃত্যু হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়। অর্থাৎ ৩৫ লাখ অন্তঃসত্ত্বা নারীর সঙ্গে আরো ৩৫ লাখ মানুষের (গর্ভের সন্তান) জীবনের প্রশ্ন জড়িত। ফলে একসঙ্গে দুটি জীবন চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন।

এসময় আদালত বলেন, যেসব দেশের কথা বলা হচ্ছে তারাওতো প্রথম দিকে  অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেয়নি। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা দিচ্ছে। আদালত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন পাঠ করে বলেন, এটা সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়। বিশেষজ্ঞ কমিটির সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় সরকার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। পত্রিকায় দেখলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া কথা বলেছেন। আদালত বলেন, আগামী ৮ আগস্ট থেকে গণটিকা দেওয়া শুরু হচ্ছে। তাই কয়েকদিন অপেক্ষা করুন। দেখি, সরকার কি করে। এসময় আদালত সংশ্লিস্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলবেন, তিনি যেনো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সংশ্লিস্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। আমরা আনুষ্ঠানিক কোনো আদেশ দিচ্ছি না। তবে এবিষয়ে ৭২ ঘন্টার মধ্যে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসা দরকার।



সাতদিনের সেরা