kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

বিক্ষোভ সমাবেশে বাম জোটের অভিযোগ

মালিকের মুনাফা ও সরকারের রপ্তানি আয়ের জন্য শ্রমিকের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০২১ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মালিকের মুনাফা ও সরকারের রপ্তানি আয়ের জন্য শ্রমিকের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ

স্বাস্থ্য বিধি, গণপরিবহন ও টিকার আয়োজন না করে করোনা মহামারীর এই চূড়ান্ত পর্যায়ে রপ্তানিমুখী কারখানা খুলে দেওয়ার গণবিরোধী ও অমানবিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের পক্ষ থেকে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, মালিকের মুনাফা ও সরকারের রপ্তানি আয়ের জন্য শ্রমিকের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা হয়েছে।

আজ রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন। বক্তৃতা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফী রতন, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা শিশু, বাংলাদেশ ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের রুবেল হেসেন ও বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারীতে দেশে যখন প্রতিদিন দুইশো থেকে আড়াইশো মানুষ মারা যাচ্ছে এবং ১৫/১৬ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, করোনা যখন উর্ধ্বমুখী, তার প্রভাবে গোটা দেশ যখন লকডাউনে, সেই সময় মালিকের মুনাফার স্বার্থে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা নোটিশে একতরফাভাবে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত চরম অগণতান্ত্রিক, গণবিরোধী, স্বাস্থ্যবিধি বহির্ভূত ও অমানবিক। করোনা মহামারীতে আমলা-মন্ত্রীরা ঘরে বসে অনলাইনে নিরাপদে থেকে অফিস চালাচ্ছেন। সেখানে শ্রমজীবী মানুষকে করোনা মহামারীতে অত্যন্ত অমানবিক কায়দায়, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের মধ্যে গাদাগাদি করে এবং পায়ে হেটে বৃষ্টিতে ভিজে হাজার হাজার টাকা খরচ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কারখানা চালু করা কোন যুক্তিতে?

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারীর মধ্যেও দেশের অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখলেও গত ১৫ মাসে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা রাষ্ট্রের ও মালিকের কাছ থেকে সহযোগিতা পায়নি। শ্রমিকদের মুনাফা অর্জনের যন্ত্র হিসেবে দেখে মালিকরা। সরকার দেখে রপ্তানি বাড়ানো ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের যন্ত্র হিসেবে। তাদেরকে মানুষ হিসেবে দেখে না। এমতাবস্থায় নেতৃবৃন্দ সকল শ্রমিককে কারখানা গেটে করোনা পরীক্ষা ও টিকা দান, স্বাস্থ্য বিধি মেনে কারখানা চালু, ঝুঁকি ভাতা প্রদান, করোনা আক্রান্ত শ্রমিকদের মালিক ও সরকারের দায়িত্বে আইসোলেশন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা করোনার মৃত্যুতে সরকারি কর্মচারীদের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি  বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে তোপখানা রোড হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।



সাতদিনের সেরা