kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

‘১০ মিনিট’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকের নতুন পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

শম্পা বিশ্বাস   

১ আগস্ট, ২০২১ ০৩:৫৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘১০ মিনিট’

মুখে মাস্ক। পরনে ধবধবে সাদা টি-শার্ট আর ধূসর ট্রাউজার, দুই পায়ে নীল রঙের স্যান্ডেল। উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টর, ৯ নম্বর রোড, বাসা নম্বর ১৩। ভোরের আড়মোড়া ভেঙে সকালটাতে কখনো মেঘের ছায়া, কখনো রোদ্দুর। ঘড়ির কাঁটা ১০টার ঘরে। হঠাৎ নিজের বাসার ছাদে হাজির ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। চলছে ফেসবুক লাইভ। উদ্দেশ্য একটাই, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতা বাড়াতে ‘১০ মিনিট’ নিজের বাসা নিজেই পরিষ্কার করা। কথা অনুযায়ী কাজ শুরু করলেন মেয়র। বাসার পুরো ছাদ ঘুরে ঘুরে আগের রাতে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি ফেলে দিলেন। উল্টে রাখেন ফাঁকা ফুলের টবগুলো।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে করতে আতিকুল ইসলাম নগরবাসীকে সচেতন করতে বিভিন্ন  পরামর্শ দেন। ছাদ পরিষ্কার শেষে তিনি যান তাঁর বাসার বাথরুমে। সেখানে থাকা ব্রাশ হোল্ডারের জমা পানিতেও যে এডিস জন্মাতে পারে সেই বিষয়ে সচেতন করেন ঢাকাবাসীকে। মেয়রের দৃষ্টি এড়ায়নি বাসায় রাখা ফ্রিজের পেছনের ট্রেতে পানি জমার দৃশ্যও। সেখান থেকেও তিনি জমে থাকা পানি ফেলে দিলেন। বাদ যায়নি বাসার বাইরের রাস্তাও। রাস্তায় লাগানো বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের টব থেকে জমা পানি ফেলে দেন মেয়র।

রাজধানীতে প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে গেল ২৭ জুলাই থেকে শুক্রবার ছাড়া ১০ দিনের জন্য চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। চলবে আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত। এই চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে পাঁচ দিন ধরে নগরবাসীকে জানানো হচ্ছে ডেঙ্গু মৌসুমের প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় ১০ মিনিটের জন্য নিজের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে। গতকাল শনিবার ছিল এই উদ্যোগের প্রথম দিন। সেখানে মেয়র তাঁর নিজের বাসা থেকে এই পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম শুরু করেন।

এ ব্যাপারে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আজ (শনিবার) থেকে শুরু করলাম, কখনোই থেমে থাকব না। তবে এ ক্ষেত্রে আমি নগরবাসীর সহায়তা চাই। তাদের নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমি একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। এই আন্দোলন আমাদের করতেই হবে। এটি সবার সুরক্ষার বিষয়। আমি এই করোনার সময় সবাইকে অনুরোধ করি, তারা যেন প্রতি শনিবার ১০ মিনিটের জন্য লজ্জা ও আলস্য ত্যাগ করে নিজ নিজ বাসা এবং ছাদ পরিষ্কার করেন।’

মেয়রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বেনজীর হাসান গতকাল ঠিক সকাল ১০টায় নিজের বাসার ছাদ পরিষ্কারে নামেন। তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে স্বয়ং মেয়র তাঁর নিজের ঘর পরিষ্কার করছেন। তাঁকে দেখে আমিও আমার বাসার ছাদ পরিষ্কার করেছি। আবার আমাকে দেখে বাসার অন্যরাও দেখলাম জমা পানি পরিষ্কার করছে। আমি কাজটা শুরু করেছি, যাতে আমাকে দেখে আরো অনেকে তাদের বাসা এবং ছাদ পরিষ্কার করে। আমরা সবাই যদি আমাদের নিজেদের ছাদ এবং বাসার বিভিন্ন জায়গায় জমা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করি, তাহলে আমরা সহজেই ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করতে পারব। এটা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।’

উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের বাসিন্দা মুরছানা আক্তার বলেন, ‘আমাদের নিজেদের সুরক্ষার জন্যই এই পরিচ্ছন্ন অভিযানে সাড়া দিয়েছি। নগরবাসীকে সচেতন করতে একজন মেয়র হিসেবে তাঁর এই উদ্যোগটা নিঃসন্দেহে ভালো। তবে এই কার্যক্রমের হয়তো আরো একটু প্রচারের দরকার ছিল। সবাই যদি বিষয়টা জানত, তাহলে হয়তো ঢাকার অনেক মানুষই এতে সাড়া দিত।’

মেয়রের ১০ মিনিট ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সাড়া দিয়েছেন ডিএনসিসির কাউন্সিলররাও। ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম বলেন, ‘আমার স্ত্রীও এই ডাকে সাড়া দিয়েছে। সে এবং আমি মিলে আমার বাসা পরিষ্কার করেছি। সেই সঙ্গে আমার ওয়ার্ডের সবাইকে সচেতন করেছি। আমি যদি একটি টবের জমা পানিও ফেলে দিতে পারি, তাহলেও অনেক মানুষ ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাবে।’

এদিকে সকালে মেয়রের এই উদ্যোগের কথা না জানার কারণে তাতে সাড়া দিতে পারেননি রামপুরার জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আসলে আমি তো জানিই না আজকে (শনিবার) মেয়র নিজেই তাঁর ঘর পরিষ্কার করেছেন আমাদের সচেতন করতে। তবে সকালে না জানলেও এখন যখন জেনেছি, বাসায় গিয়েই আমি আমার ছাদ পরিষ্কার করব।’

আবার কয়েক দিন ধরে মেয়রের এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সম্পর্কে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর দেখলেও গতকাল সকাল ১০টার সময় এই কর্মসূচিতে শামিল হতে ভুলে গিয়েছিলেন রাশেদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর ভয়ে আমি নিজ দায়িত্বেই আমার বাসা পরিষ্কার রাখি। তবে মনে থাকলে সকালে মেয়রের সঙ্গে আরো একবার করতাম।’

এত কর্মসূচির পরও সচেতন না হওয়া নগরবাসীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বাড্ডার বাসিন্দা রহমান আলী বলেন, ‘আমি তো আমার বাসা পরিষ্কার করিনি।’ কেন করেননি এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর নেই তাঁর কাছে। তাঁর সুরে সুর মেলালেন কল্যাণপুরের বনি ইবনে কামাল। তিনি বলেন, ‘আমার বাসা এমনিতেই পরিষ্কার আছে। তাই নতুন করে আর কী পরিষ্কার করমু।’



সাতদিনের সেরা