kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

‘প্যাটের দায়ে চাকরি বাঁচাতে হলে তো আমাগো আসতেই হইবো’

অনলাইন ডেস্ক   

৩১ জুলাই, ২০২১ ১৬:১৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘প্যাটের দায়ে চাকরি বাঁচাতে হলে তো আমাগো আসতেই হইবো’

কঠোর লকডাউনের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এতে চাকরি বাঁচাতে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাজধানীতে আসছে মানুষ। তবে গণপরিবহন পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী বন্ধ আছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে বেসামাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নূপুর আক্তার নামের একজন নারী জানিয়েছেন, তিনি বরিশাল থেকে রওনা দিয়েছেন, যাবেন গাজীপুরের মাওনা। তিনি বলেন, ‘আগে শুনছিলাম পাঁচ তারিখ পর্যন্ত গার্মেন্টস বন্ধ থাকবে। কালকে ঘোষণা দিছে, রবিবার থেকেই নাকি মিলকারখানা খুলবে। আমাগো মোবাইলে ম্যাসেজও পাঠাইছে যেন কালকে অফিসে হাজির থাকি। এখন কি করবো? প্যাটের দায়ে চাকরি বাঁচাতে হলে তো আমাগো আসতেই হইবো।’ তিনি দাবি করেন, সরকারের উচিৎ ছিল মিল-কারখানা খুলে দিলে যানবাহনও চালু করে দেয়া। 

তারই সঙ্গে একত্রে ফেরি পার হয়েছেন মাদারীপুর থেকে আসা নাজমা আক্তার। তিনিও গাজীপুরে যাবেন। তিনি বলেন, 'গার্মেন্টস তো খুলে দিছে, আমাগো যাইতে হইবো, যেভাবেই হোক। অনেক কষ্ট করে এই পর্যন্ত আসছি। আশি টাকার ভাড়া আড়াইশো টাকা নিছে। যেভাবেই হোক কষ্টমষ্ট করে যাইতে হইবো।’

ঈদের আগের দিন কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার পর তিনি গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, তাদের সঙ্গে আরও অনেকে একইভাবে ঢাকা, গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। একই চিত্র দেখা গেছে পাটুরিয়া থেকে ঢাকামুখী সড়কেও।

গাবতলীতে একজন গার্মেন্টস কর্মী বলেন, ‘রাজবাড়ী থেকে অনেক কষ্ট করে ভাইঙ্গা ভাইঙ্গা আমিনবাজার পর্যন্ত আসছি। মোবাইলে ম্যাসেজ আসছে যে এক তারিখ কারখানায় হাজির হতে হবে।’ তিনি জানান, বাড়ি থেকে অটোরিকশায় করে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত এসেছেন। সেখান থেকে ফেরি পার হয়ে সিএনজিতে করে এসেছে মানিকগঞ্জ। আরেকটি সিএনজিতে নবীনগর পর্যন্ত এসেছেন। সেখান থেকে রিকশায় করে এসেছেন আমিনবাজার। এরপর হেঁটে হেঁটে যাচ্ছেন। এই পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ১২০০ টাকা।

আমিনবাজারে রাস্তার পাশে ছোট শিশুকে নিয়ে বসেছিলেন কুমিল্লার চাঁদপুর থেকে আসা আরেকজন নারী। তিনি নাম বলতে চাননি। তিনি জানিয়েছেন, নানারকম বাহন ব্যবহার করে, কিছুটা হেঁটে হেঁটে চাঁদপুর থেকে এই পর্যন্ত এসেছেন। কারণ কালকে অফিস (গার্মেন্টস) খুলে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে আসতে হয়েছে। না হলে পাঁচই অগাস্ট গাড়ি চালু হলে আসতেন।



সাতদিনের সেরা