kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

ওয়েবিনারে বক্তারা

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ জুলাই, ২০২১ ০১:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি

সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) ও আর্ক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা বলেছেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

বক্তারা বলেন, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগগুলো প্রতিরোধে শরীরচর্চা, শারীরিক পরিশ্রম এবং তাজা শাকসবজি গ্রহণ জরুরি। শরীরচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত, তাজা শাকসবজি ও ফলমূলের জোগান নিশ্চিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিতে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন আর্ক ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. রুমানা হক। আলোচনায় অংশ নেন মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, জাইকার এনসিডিবিষয়ক পরামর্শক ড. বরেন্দ্রনাথ মণ্ডল, প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের হেলাল আহমেদ, সিয়ামের নির্বাহী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ, সুশাসন ফাউন্ডেশনের কনক মজিবুদৌল্লাহ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, ব্যারিস্টার নিশাদ মাহমুদ প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, তাজা শাকসবজি গ্রহণসংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে, ১১টি মন্ত্রণালয়ের ৩১টি আইনে ও নীতিমালায় তাজা শাকসবজির জোগানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৮৯.৬ শতাংশ প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পাঁচ ধরনের ফল ও সবজি গ্রহণ করে না। অথচ প্রতিবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি ও ফল গ্রহণ করানো সম্ভব হলে ২.৭ মিলিয়ন মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ১৭টি জেলায় কোনো ব্যায়ামাগার বা জিমের ব্যবস্থা নেই। ৫০১টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সরকারি বিদ্যালয়ে কোনো নিজস্ব মাঠ নেই। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কায়িক পরিশ্রম বা শরীরচর্চার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বাজেট বরাদ্দের ব্যবস্থা নেই। তিনি আরো বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রমের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন; যা নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব।

গাজী কামরুল হুদা সেলিম বলেন, ‘এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যু ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।’ স্থানীয় সরকার আইনে কায়িক পরিশ্রম ও শরীরচর্চার পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়াদি নিশ্চিতে আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, ‘চিকিত্সাব্যবস্থার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে আমাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কভিড-১৯ আমাদের এই বার্তাই দিচ্ছে। অসংক্রামক রোগের চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য খরচ ও মৃত্যু কমবে এবং সর্বোপরি দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।’



সাতদিনের সেরা