kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

ঠিকাদার আরব আলী হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ জুলাই, ২০২১ ০১:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঠিকাদার আরব আলী হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ই তাদের পেশা। বিরোধপূর্ণ জায়গা দখল কিংবা টাকার বিনিময়ে কাউকে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখায় তারা। কখনো কখনো ভাড়ায় হত্যা মিশনেও তারা অংশ নেয়। একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের এমন তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির (ডিবির) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত বুধবার সকাল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযানে চাঁদপুর ও ঢাকার পল্লবী থানা এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। ডিবি পুলিশের উপকমিশনার মো. মশিউর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. সাহজামান ওরফে সাবু, মো. দুলাল প্যাদা ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি রিভলবার, একটি পিস্তল ও তিন হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, ক্যান্টনমেন্ট থানার পশ্চিম মাটিকাটা এলাকাবাসীর সংগৃহীত টাকায় স্যুয়ারেজ লাইন মেরামতকাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় পানির লাইন ও স্যুয়ারেজ ঠিকাদার আরব আলীকে। কাজ চলাকালে সন্ত্রাসীরা আরব আলী ও তাঁর নির্মাণ শ্রমিকদের কাছে চাঁদা দাবি করে। আরব আলী টাকা দিতে অস্বীকার করলে গত ৩০ মার্চ দুপুরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ৩৩/এ নম্বর বাসার সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা উপর্যুপরি গুলি করে। উপস্থিত বুদ্ধিতে ওই ঠিকাদার শুয়ে পড়ে কোনো রকমে নিজের জীবন রক্ষা করতে পারলেও তাঁর ডান পা ও ঊরু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনায় আরব আলীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। এই মামলার তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম।

ব্রিফিংয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় আরব আলী হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। এ ছাড়া তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ঠিকাদার আরব আলী হত্যাচেষ্টা মামলা তদন্তকালে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। পরে গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত, সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্র ও তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর বুধবার চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে এই সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যতম সদস্য সাহাজামান ওরফে সাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ডিএমপি গোয়েন্দা শাখার (ডিবি-গুলশান) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের সদস্যরা বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার পল্লবী থানার কালাপানি এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন ও দুলাল বেড়া ওরফে জেএমবি দুলালকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ছয় চেম্বারবিশিষ্ট একটি রিভলবার ও এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, তারা বিভিন্ন সময় ‘কন্ট্রাক্টে’ কিলিং মিশনে অংশ নিত। এ ছাড়া তারা পরস্পর যোগসাজশে মাদক কারবারের বিস্তৃতি ও ভাসানটেক, কালশী, ক্যান্টনমেন্ট, মাটিকাটা এলাকায় চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের জন্য অস্ত্র ব্যবহার করে আসছিল। এ ছাড়া তারা ওই এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দিয়ে জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত। এসব সন্ত্রাসী তাদের শিষ্যদের দিয়ে ইয়াবা কারবার পরিচালনা করত। এই সন্ত্রাসীরা বড় ঘটনা ঘটিয়ে পদ্মা-মেঘনার দুর্গম চরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করত। তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি পৃথক মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বিদেশে পালিয়ে থাকা অন্যতম সন্ত্রাসী ইব্রাহীম ও যুবরাজের তত্ত্বাবধানে তারা কাজ করে বলে জানিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া এই সন্ত্রাসী গ্রুপের আরো আট থেকে দশজনের নাম মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা