kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

ওয়েবিনারে বক্তারা

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুলাই, ২০২১ ১৮:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান

সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) ও আর্ক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ওয়েবিনারে বলেছেন, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগগুলো প্রতিরোধ শরীরচর্চা, শারিরীক পরিশ্রম এবং তাজা-শাকসবজি গ্রহণ জরুরি। শরীরচর্চা পরিবেশ নিশ্চিত, তাজা-শাকসবজির ফলমূলের যোগান নিশ্চিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

বৃহস্পতিবার ‘অসংক্রামকরোগ প্রতিরোধে শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভাস নিশ্চিতে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন আর্ক ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. রুমানা হক। আলোচনায় অংশ নেন মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, জাইকার এনসিডি বিষয়ক পরামর্শক ড. বরেন্দ্রনাথ মন্ডল, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের হেলাল আহমেদ, সিয়ামের নির্বাহী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ, সুশাসন ফাউন্ডেশনের কনক মজিবুদৌল্লাহ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট-র পরিচালক গাউস পিয়ারী, ব্যারিষ্টার নিশাদ মাহমুদ প্রমূখ।

মূল প্রবন্ধে আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, তাজা শাক-সবজি গ্রহণ সংক্রান্ত গবেষনায় দেখা গেছে, ১১টি মন্ত্রণালয়ের ৩১টি আইনে ও নীতিমালায় তাজা-শাকসবজি যোগানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ৮৯.৬ শতাংশ প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ৫ ধরনের ফল ও সবজি গ্রহণ করে না। অথচ প্রতিবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি ও ফল গ্রহণ করানো সম্ভব হলে ২.৭ মিলিয়ন মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ১৭টি জেলায় কোন ব্যায়ামাগার বা জিমের ব্যবস্থা নেই। ৫০১টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সরকারী বিদ্যালয়ে কোন নিজস্ব মাঠ নেই। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কায়িক পরিশ্রম বা শরীরচর্চার জন্য সুনির্দিষ্ট কোন বাজেট বরাদ্ধের ব্যবস্থা নেই। তিনি আরো বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোতে নিরাপদ খাদ্যাভাস এর পাশাপাশি শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রমের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যা নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজেট বরাদ্ধ এবং আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব।

গাজী কামরুল হুদা সেলিম বলেন, এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের অসংক্রামক রোগজিনত মৃত্যু ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারকে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। স্থানীয় সরকার আইনে কায়িক পরিশ্রম ও শরীর চর্চার পরিবেশ সৃষ্টিতে বিষয়াদি নিশ্চিতে আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে আমাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।  কোভিট-১৯ আমাদেরকে এই বার্তাই দিচ্ছে। অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। খাদ্যাভাস পরিবর্তন এবং কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যাক্তিগত স্বাস্থ্য খরচ ও মৃত্যু কমবে এবং সর্বপরি দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।



সাতদিনের সেরা