kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

দিল্লির চিঠি

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সাবালকত্ব

জয়ন্ত ঘোষাল   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০৪:১৫ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সাবালকত্ব

কূটনীতি কোনো স্থিতিশীল ধারণা নয়। পৃথিবীর সব কিছুর মতোই কূটনীতিও খুব গতিশীল এক ধারণা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পর থেকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। অনেক বাস্তবতা, অনেক নতুন নতুন অগ্রাধিকারের জন্ম হয়েছে। সেই সব বাস্তবতাভিত্তিক অগ্রাধিকারের রাজপথ ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আজ এক অভূতপূর্ব পরিণতমনস্কতায় পৌঁছাচ্ছে বলে বোধ হচ্ছে।

সম্প্রতি তাসখন্দে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইরয়ের সঙ্গে দুটি পৃথক সুদীর্ঘ বৈঠক দেখে আমার মনে এই মন্তব্য স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসেছে। ১৯৭১ সালে যখন স্বাধীন হয় তার পর থেকে আজ এই দীর্ঘ সময়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর গতি-প্রকৃতি নানাভাবে বদলেছে। ভূগোল বদলায় না। ইতিহাস বদলায়। কাজেই এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট দেশটি কার্যত প্রায় চারদিক থেকেই ভারতের দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং ভারতের একটা বিপুল জনসংখ্যা রয়েছে। সেখানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব আজ গোটা পৃথিবীর কাছে এক অসাধারণ পরিচিত ‘টেস্টেড ফ্রেন্ডশিপ’ অর্থাৎ পরীক্ষিত বন্ধুত্ব। নানা ঝড়ঝঞ্ঝা আসে। অনেক প্রতিকূলতা আসে। অনেক রকমের অসন্তোষের জন্ম হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আজও ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অটুট থেকেছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মধুর হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারত বাংলাদেশ নামক সার্বভৌম রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের বয়স বাড়ছে। ঐতিহাসিক পটভূমি যা-ই হোক না কেন, সময়ের হাত ধরে অনেক কিছু বদলায় এবং আজ বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের যে দ্রুত উন্নতি হচ্ছে এবং রাশিয়ার সঙ্গেও যেভাবে বাংলাদেশের সম্পর্কের একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে—এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে ভূমিকা পালন করেছেন, ভারতীয় সাংবাদিক হয়েও বলছি যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এটা একটা অত্যন্ত পরিণতমনস্ক পদক্ষেপ।

আফগানিস্তান অশান্ত হয়ে উঠেছে। সেখানে তালেবান সরকার গঠন আর শুধু সময়েরই অপেক্ষা বলে মনে হচ্ছে। এবং এই তালেবানরা যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তা ভারতের জন্য যে উদ্বেগের কারণ হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। পাকিস্তান চুপচাপ তালেবানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে এগোচ্ছে। পাকিস্তান চাইছে যে আবার সেই পুরনো আফগানিস্তান ফিরে আসুক যেখানে তালেবানরা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। চীন, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের যে অক্ষ সেটা সুবিদিত। এ রকম একটা অবস্থায় চীন তার ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ প্রকল্পের জন্য শুধু পাকিস্তানের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এবং সেখানে চীনের যে রকম স্বার্থ আছে ঠিক সেভাবে তারা বাংলাদেশকে প্রতিষেধক দিয়ে করোনা সংকটে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা মোচনের জন্য যে তারা এগিয়ে এসেছে তার সুযোগটা বাংলাদেশ নিতে কিছুটা বাধ্যই হয়েছে। তার কারণ ভারতকে পয়সা দেওয়া সত্ত্বেও যথাসময়ে ভারতের কাছ থেকে তারা প্রতিষেধক পায়নি। তারা সে ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কিন্তু ভারত জানিয়েছে যে তারা নিজেরাই নিজেদের দেশে যেহেতু প্রতিষেধক বণ্টন করতে পারছে না। সেহেতু অন্য কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রে এখন তাদের পক্ষে প্রতিষেধক পাঠানোটা অগ্রাধিকার নয়। সুতরাং এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে কোনো রকম গোপনীয়তা না করেই প্রকাশ্যেই চীনের সঙ্গে প্রতিষেধক বোঝাপড়ার পথে বাংলাদেশ কিছুটা যেতে বাধ্য হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বৈঠক, সেই বৈঠকে কিন্তু শুধু প্রতিষেধক নয়, অর্থনৈতিক বিষয়েও কথাবার্তা হয়েছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বৈঠক হয়েছে তাতে বাংলাদেশ এবং চীন দুই পক্ষই সহমত হয়েছে। এই যে কভিড কোন দেশ থেকে এলো, কিভাবে এলো তার উৎস সন্ধান নিয়ে অহেতুক রাজনৈতিক চাপান-উতোরে না যাওয়াই বাঞ্ছনীয়। এখন করোনা মোকাবেলা করা প্রয়োজন। প্রতিষেধক নীতি অনেক আক্রমণাত্মক করা প্রয়োজন, যাতে সবার কাছে সেটা পৌঁছায়। সুতরাং সাধারণ মানুষকে এটা থেকে বের করে আনা প্রয়োজন। কিন্তু এটা নিয়ে একটা সার্বভৌম রাষ্ট্র আরেকটা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সঙ্গে অহেতুক ঝগড়ায় লিপ্ত হবে সেটা কিন্তু কাম্য নয়। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা কী হবে সেটা অবশ্য দেখার বিষয়! কেননা প্রেসিডেন্ট বাইডেন রিপাবলিকান দলের থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির চীন সম্পর্কে যে দৃষ্টিভঙ্গি তার মধ্যে যথেষ্ট ফারাক আছে। ওবামা যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন তিনিও চীন সফর করে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। ওবামা নিজের আত্মজীবনীতেও চীন নীতি সম্পর্কে বিশদ বলেছেন। কিন্তু বাইডেন চীন সম্পর্কে একটা নতুন পররাষ্ট্রনীতি নিয়েছেন। যেটা কিছুটা ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের নীতির সঙ্গে মিল খায়। এবং তিনি চীনকে কিছুটা দমন করার নীতি নিচ্ছেন। কেননা বাইডেন প্রশাসন বলছে যে চীন আসলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে অন্যের স্বার্থে আঘাত হানে। যদি আমেরিকার স্বার্থে আঘাত না করে চীন বন্ধুত্ব করতে চাইত, তাহলে হয়তো শত্রুতা করার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু বাইডেনের এই নীতি দেখে অনেকটা মনে হচ্ছে যে আমেরিকার জনসমাজ থেকে এখন ট্রাম্প চলে গেলেও ‘ট্রাম্পবাদ’ আছে। সেখানে এই যে রক্ষণশীল মনোভাব এবং কিছুটা ‘প্যান আমেরিকানিজম’ সেই মনোভাবের দ্বারা তারা আক্রান্ত। সে কারণেই হয়তো বাইডেন চীন সম্পর্কে এ রকম একটা নীতি নিচ্ছেন। কিন্তু যখন আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করে আফগানিস্তান থেকে চলে যাচ্ছে, সেই সময় বাইডেনের এই চীন নীতির প্রতিক্রিয়া এই উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের মধ্যে কী হবে? আমেরিকা বিন লাদেনের দ্বারা একবার আক্রান্ত হয়েছে। এখানে যদি জঙ্গি তৎপরতা বাড়তে থাকে এবং যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসের মোকাবেলা না করা হয়, তাহলে আগামী দিনে যে তারা আর কোনো বড় বিপদের মুখে পড়বে না তার কোনো গ্যারান্টি নেই। সুতরাং শুভবুদ্ধি যদি উদয় হয়, তাহলে যুদ্ধের বদলে শান্তির পথে এগোতে হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সাবালকত্ব এখানে যে তারা কিন্তু যুদ্ধের পথে নয়, শান্তির পথে এগোতে চাইছে। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাইছে। তাতে ভারতের সঙ্গে মৈত্রী আরো শক্তিশালী হবে। দুর্বল হতে পারে না। আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টর্নি জে ব্লিংকেন শিগগিরই ভারত ও কুয়েত সফরে আসছেন। ভারত ও আমেরিকার এই বৈঠকে কী হয় সেটাও কিন্তু এই পরিস্থিতিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশও নিশ্চয় আগ্রহী। কৌতূহল রয়েছে। সুতরাং এসব ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে এখন যাচ্ছে সেটার দিকে নজর রাখাটা এখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।

পররাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে বড় শর্ত হচ্ছে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করা। ১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা গঠন হলো, ভুলে গেলে চলবে না, তখন চীন কিন্তু পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। চীন এটাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দায়িত্ব এড়িয়েছিল। বাংলাদেশ গঠনকে যেভাবে ইন্দিরা গান্ধী সমর্থন করেছিলেন, ঠিক সেভাবে কিন্তু আমেরিকা এবং চীন দুই পক্ষ করেনি। কিন্তু আজকে চীনের সেই কমিউনিস্ট শক্তি, যারা পাকিস্তানের বিষয়টাকে অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে অভিহিত করেছিল, আজকে তারাও কিন্তু মনে করছে অতীতে অনেক ভাবনা-চিন্তায় ভুল হয়েছিল। বাংলাদেশ নিয়ে চীনের জাজমেন্টে যে ভুল ছিল সেটা যে এখন চীন বুঝতে পারছে সে কথা বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত কূটনীতিক হারুন উর রশিদ, তাঁর ‘বাংলাদেশ ফরেন পলিসি’ নামক গ্রন্থে সুস্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন। তিনি লিখেছেন যে ‘চায়না সাপোর্ট ওয়াজ সিন অ্যাজ অ্যান এরর অব পলিটিক্যাল জাজমেন্ট অব দি চায়নিজ লিডারস অন দ্য বাংলাদেশ ইস্যু। দেয়ার কুড বি সেভারেল রিজনস ফর চায়না সাপোর্টিভ অ্যাটিচুড টুওয়ার্ডস পাকিস্তান অ্যান্ড সাম অব দেম ডিসার্ভ মেনশন।’ তিনি অন্তত চারটি কারণ দেখিয়েছেন, চীন যেহেতু ১৯৬২ সালে ভারতকে পরাস্ত করেছিল এবং সীমান্ত নিয়ে তাদের একটা ঝামেলা ছিল, সুতরাং চীনের পাকিস্তান নীতিতে বদল আনা সে সময় কার্যত অসম্ভব ছিল। পূর্ব পাকিস্তানকে যেহেতু বাংলাদেশে পরিণত করা হচ্ছে এবং যার মধ্যে ভারতের ষড়যন্ত্র আছে বলে পাকিস্তান মনে করেছে এবং সেই তত্ত্ব চীন তখন বিশ্বাস করেছিল। চীনও কিন্তু একটা ‘হোমোজিনিয়াস’ দেশ নয়। নানা রকমের জাতি আছে এবং তিব্বত নিয়ে তাদের অনেক মাথাব্যথা ছিল। যেটা নিয়ে তারা কোনো অবস্থানগত পরিবর্তন করলে তাদের অনেক অসুবিধা হয়ে যেত। এবং সেখানে ভারতের কূটনৈতিক লাভ হতো, যেটা তারা করতে দিতে পারেনি। পাকিস্তান সব সময় চীন এবং আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্কের ঘাত-প্রতিঘাতের সুযোগ নিয়ে এসেছে। চীন দেখেছে যে মস্কো-ভারত তখন খুব কাছাকাছি। তার ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করাটাই ছিল যথার্থ অক্ষ। সময়ের হাত ধরে কত কিছুই বদলে গেছে সেই সোভিয়েত ইউনিয়ন কী আজ আছে? সেই কারণে আজকে কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন না থাকলেও রাশিয়া সেই চীনের পাশাপাশি সম্পর্কটাকে পুনরুজ্জীবিত করছে। এটাই সব থেকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। সেদিন কিন্তু বাংলাদেশে যখন নতুন রাষ্ট্র গঠন হলো তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র ছিল। তারা বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল। ১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট এন ভি পটগোর্নি একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে জানিয়ে যে পাকিস্তানের যে ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে সেখানে তাদের অনেক প্রশ্ন এবং সেটা নিয়ে তাদের সমস্যা রয়েছে। তাহলে মস্কো, বাংলাদেশকে সেদিন সমর্থন করেছিল। এবং মস্কো তখন ভারতের বন্ধু। পাকিস্তানকে তারা আমেরিকার মিত্রশক্তি বলে মনে করছে। এমনকি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন ১৯৭২ সালের মে মাসে চীনে গেছেন। তার আগে পর্যন্ত ১৯৭১ সালের পরিস্থিতিটা ছিল আলাদা।

সব মিলিয়ে আজ এত বছর পর রাশিয়া কিন্তু নতুন অধ্যায় শুরু করেছে যখন সেই চীনের সঙ্গে আজকে রাশিয়ার বন্ধুত্ব। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সুসম্পর্ক কিন্তু এখন প্রতিষ্ঠা হয়নি। তাহলে চীন-পাকিস্তান-রাশিয়া যখন এক অক্ষ হয়ে যাচ্ছে এবং আফগানিস্তানের ইস্যুতেও রাশিয়া যখন আমেরিকাকে বেশ বিপাকে ফেলতে চাইছে এবং ভারত যখন গোটা ব্যাপারটা নিয়ে উদ্বিগ্ন তখন বাংলাদেশের যে জিওস্ট্যাজিক পজিশন তাতে কিন্তু তাদের একটা নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি হওয়াটা কাঙ্ক্ষিত। ভারত একটা জিনিস বুঝতে পারছে যে চাপের মধ্যে রেখে ভারতের যে পররাষ্ট্রনীতি নেপাল এবং ভুটানকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে, তাতে আখেরে সমস্যা বেড়েছে। আজকে কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশের আজকের পররাষ্ট্রনীতির যে সাবালকত্ব সেটা ভারতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে বলে আমি মনে করি না। বরং আমি মনে করি, বাংলাদেশ যদি স্বাভাবিকভাবে তাদের বিদেশনীতিকে নিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে এগোতে পারে, তাহলে কিন্তু যুদ্ধ নয়, শান্তির আবহ তৈরি করতে অনেক সুবিধা হবে।

আজ যখন ভারত তালেবানি শক্তির সঙ্গেও কথা বলতে পারছে। আগামী দিনে কাশ্মীর নিয়েও রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনায় যাচ্ছে। ভারতের এখন পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও একগুঁয়েমি এবং একদেশদর্শী মনোভাব পরিত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়।

লেখক : নয়াদিল্লিতে কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি



সাতদিনের সেরা