kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

ঢাকার থানায় বডিক্যাম ব্যবহারের উদ্যোগ

ওমর ফারুক   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০৩:১৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ঢাকার থানায় বডিক্যাম ব্যবহারের উদ্যোগ

রাজধানীর রাস্তায় যাওয়ার সময় পুলিশ সাধারণ মানুষকে আটকে পকেটে মাদক দিয়ে গ্রেপ্তার করে এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা তখন জানান, তার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত হতে পারেন না আসলে কোনটি সত্য। এসব ঝামেলা এড়াতে এবার রাজধানীর প্রতিটি থানায়  ‘বডি ওর্ন’  বা ‘বডিক্যাম’ (পোশাকের সঙ্গে লাগানোর ক্যামেরা) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, তাঁরা ডিএমপির প্রতিটি থানায় ব্যবহারের জন্য ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরা চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করেছেন।

kalerkanthoউন্নত দেশের পুলিশ বহু আগে থেকেই বডিক্যাম ব্যবহার করে আসছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। তখন থেকে এ পর্যন্ত ৬০০টি বডিক্যাম ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ব্যবহার করছে। ডিএমপিতে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ট্রাফিক সার্জেন্ট দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে ৬০০ জনকে এই ক্যামেরা দেওয়ার সুযোগ মিলেছে। এর মধ্যে কিছু ক্যামেরা প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। পরে মেরামত করে দেওয়া হয়।

বডিক্যাম ব্যবহার শুরুর পর থেকে সুফল পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বডিক্যামের কারণে আমরা খুব ভালো ফল পাচ্ছি। আগে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আসত সেটা এখন কমেছে।’ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘একজন কর্মকর্তা যতক্ষণ দায়িত্বে থাকেন ততক্ষণ বডি ক্যামেরা চালু রাখতে হয়। যদি তিনি চালু না রাখেন তা হলে পুলিশ কর্মকর্তাকে অপরাধী বলে ধরে নেওয়া হয়।’ আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনেক আগেই লিখেছি বডিক্যাম দেওয়ার জন্য। যদি ২৫০টি বডিক্যাম পাওয়া যায় তাহলে ডিএমপির ৫০টি থানার প্রতিটিতে পাঁচটি করে দেওয়া যাবে।

এতে করে পাঁচটি টহল টিম ক্যামেরা দিয়ে পাঠানো যাবে।’

মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে টহল টিমের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ পাওয়া যায় যে কেউ একজন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন তাঁকে ইয়াবা দিয়ে ধরা হচ্ছে। বডিক্যাম থাকলে প্রকৃত ঘটনাটি আসলে বুঝা যাবে যে কে সত্য কথা বলছে।’ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তা বডিক্যাম ব্যবহার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর আমরা ক্যামেরা থেকে ভিডিও চিত্র নিয়ে প্রকৃত ঘটনা দেখে ব্যবস্থা নিতে পারি। এভাবে কয়েকজনকে গুরুদণ্ড, লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্যকারী যানবাহন ও চালক শনাক্ত, দুর্ঘটনা, কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, সড়কে দায়িত্বরত পুলিশের অনিয়ম প্রতিরোধ ও তল্লাশি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীতে বডি ওর্ন ক্যামেরা চালু করা হয়। এরপর গত বছর সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা বডিক্যাম ব্যবহার করতে শুরু করেন।

সর্বশেষ চট্টগ্রাম নগর পুলিশের থানা পর্যায়ের সদস্যরা এই ক্যামেরার ব্যবহার শুরু করেছেন। গত শনিবার বন্দর নগরীর চারটি থানার পুলিশ সদস্যদের পোশাকের সঙ্গে এ ক্যামেরা লাগানো হয়। ঢাকা ও সিলেটে শুধু ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা এ ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করে আসছিলেন। পরীক্ষামূলকভাবে এবার চট্টগ্রামের কোতোয়ালি, ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ ও পতেঙ্গা থানায় সাতটি করে ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। থানার উপপরিদর্শকরা এসব ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মো. তানভীর সাংবাদিকদের বলেন, “ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে থানা পর্যায়ে চট্টগ্রামে এ ক্যামেরার ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। এ ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড থাকবে। তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাবে। আমরাও সহজে তাদের কাজগুলো যাচাই করতে পারব। এ ক্যামেরাগুলো ‘জিপিআরএস’ সিস্টেমের আওতায় আনা হবে এবং ফলাফল ভালো এলে পরবর্তী সময়ে সব থানায় এসব ক্যামেরা দেওয়া হবে।”

কিভাবে কাজ করে বডিক্যাম : পুলিশ জানায়, বডি ক্যামগুলো কর্মকর্তাদের পোশাকের কলার কিংবা বুকের সঙ্গে লাগানো থাকে। বডিক্যাম মোবাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করে কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। অন্ধকারে ভিডিও না হলেও অডিও রেকর্ড করা যায়। কাজ শেষে মেমোরি কার্ড থেকে ডাউনলোড করে ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা যায়।

জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগ) মো. শফিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, রাজধানীতে ৬০০-এর মতো বডিক্যাম ব্যবহার হচ্ছে। বডিক্যামগুলো সার্জেন্টদের কাছেই থাকে। মেমোরি ফুল হয়ে গেলে সেটি তাঁরা ট্রাফিকের মিডিয়া বিভাগে জমা দেন। সারা দিন তাঁরা যে দায়িত্ব পালন করেন তা বডিক্যামের মেমোরিতে ভিডিও হয়ে জমা থাকে। কোনো প্রয়োজন হলে সেই মেমোরি থেকে তথ্য নেওয়া হয়। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো সার্জেন্টের সুযোগ নেই মেমোরি থেকে তথ্য মুছে ফেলার। মুছে ফেললে তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।’



সাতদিনের সেরা