kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল

বাঁশখালীতে নিহতদের ৭ পরিবার পেল ৩৫ লাখ টাকা

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ জুলাই, ২০২১ ১৫:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁশখালীতে নিহতদের ৭ পরিবার পেল ৩৫ লাখ টাকা

হাইকোর্টের নির্দেশ প্রতিপালন করে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দিয়েছে এস আলম গ্রুপ। নিহত ৭ জনের পরিবারকে মোট ৩৫ লাখ টাকা দিয়েছে ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া আহত ১৬ শ্রমিকের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের কপি অ্যাটর্নি জেনারেল ও রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিনকে দেওয়া হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহিনুজ্জামান রবিবার প্রতিবেদন দাখিলের তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসক(ডিসি) ও পুলিশ সুপারের(এসপি) নেতৃত্বে গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতের কাছে সময়ের আবেদন জানানো হয়েছে।

হাইকোর্ট গত ৪ মে এক আদেশে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে আপাতত ৫ লাখ টাকা করে এবং আহতদের চিকিৎসার খরচ দিতে নির্দেশ দেন। এ আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে এস আলম গ্রুপকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একারণেই আদেশ প্রতিপালন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে এস আলম গ্র“প। প্রতিষ্ঠানটি আইনজীবী মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এ প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া ওই ঘটনায় গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত কমিটির(ডিসি ও এসপির নেতৃত্বাধীন পৃথক দুই কমিটি) প্রতিবেদন ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই দুই কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের সময় শেষ হয়ে গেছে। তবে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় সময় চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।

গত ২২ ও ২৮ এপ্রিল ৬টি মানবাধিকার সংগঠনের করা পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নিজেরা করি, সেফটি অ্যান্ড রাইটস এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এ রিট আবেদন করে।

হাইকোর্টের অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি জারি করা রুলে ওই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, গ্রামবাসী ও শ্রমিকের নিরাপত্তা দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে ৩ কোটি টাকা করে ও আহতদের ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং গ্রামবাসী ও শ্রমিক নিরাপত্তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের বেতনভাতাসহ ১১ দফা দাবি নিয়ে অসন্তোষের জেরে গত ১৭ এপ্রিল শনিবার পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৭জন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। বাশখালী থানার পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়কারী মো. ফারুক বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। এ দুটি মামলায় শ্রমিক ও এলাকাবাসীসহ প্রায় সাড়ে তিনহাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে এই বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ৪জন এবং ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি একজন গ্রামবাসী নিহত হয়।



সাতদিনের সেরা