kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

বিশ্ব ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ’ দিবস আজ

দেশে ১৯ মাসে পানিতে ডুবে ১৫১২ মৃত্যু

সজীব আহমেদ   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০২:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে ১৯ মাসে পানিতে ডুবে ১৫১২ মৃত্যু

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর উচ্চহারে বিশ্বে শীর্ষ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। পানিতে ডুবে মৃত্যু নিয়ে জাতীয়ভাবে সর্বশেষ জরিপ হয়েছে ২০১৬ সালে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ পরিচালিত ওই জরিপে দেখা গেছে, প্রতিবছর সব বয়সী প্রায় ১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। আর বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মারা যায় ৩০ জন। বছরের হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত ১০ হাজার।

এদিকে গত ১৯ মাসে ৯৬৭টি ঘটনায় এক হাজার ৫১২ জন পানিতে ডুবে অথবা নৌ দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এর মধ্যে ১,৩৩২ জন পানিতে ডুবে আর ১৮০ জন নৌ দুর্ঘটনায় ডুবে মারা যায়। উভয় ঘটনায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১,৫১২ জনের (৭০ শতাংশ) বয়স ১০ বছরের কম। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় গণমাধ্যম উন্নয়ন ও যোগাযোগবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘সমষ্টি’ এ চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ রবিবার পালিত হবে বিশ্ব ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ’ দিবস। গত ২৮ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক রেজল্যুশন গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ২৫ জুলাইকে বিশ্ব ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ’ দিবস ঘোষণা করে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রেজল্যুশনটি উত্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা।

ইন্টারন্যাশনাল ড্রাউনিং রিসার্চ সেন্টার (আইডিআরসি) বাংলাদেশের ডিরেক্টর ড. আমিনুর রহমান শিশু স্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ এবং অপমৃত্যু রোধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘অপঘাতজনিত কারণে আমাদের দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ শিশু মারা যাচ্ছে তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু। বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায়ই পানিতে ডুবে মৃত্যুহার সর্বাধিক। এর মধ্যে আবার সর্বাধিক ভারতে। কিন্তু জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে যতজন শিশু পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে তা ভারতের চেয়ে বেশি। সবাই বলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় বেশি শিশু মারা যায়। আসলে বেশি শিশু মারা যায় পানিতে ডুবে।’

তিনি বলেন, ‘পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধ সরকারের পরিকল্পনায় আছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক ব্যাধির প্রতিরোধ কার্যক্রমের আওতায় এজেন্ডা আছে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমানোর।’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে মুন্সীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ বেশ কিছু জেলায় শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৫৭ লাখ টাকা। রাজবাড়ী ও ফরিদপুরে পাঁচ কোটি ৮৪ লাখ টাকার আরেকটি কর্মসূচি রয়েছে।

‘সমষ্টি’র তথ্যে দেখা গেছে, গত ১৯ মাসে কুড়িগ্রাম জেলায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর সর্বাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত এই জেলায় ৬৩ জন পানিতে ডুবে মারা যায়। এদের মধ্যে ৪৫ জনের বয়স ৯ বছরের কম। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে এসব শিশু পানির সংস্পর্শে গিয়ে মারা যায়। অন্যদিকে দেশের আট বিভাগের মধ্যে গত ১৯ মাসে পানিতে ডুবে সর্বাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ সময় এই বিভাগের জেলাগুলোয় অন্তত ২৭১ জন পানিতে ডুবে মারা যায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২৮টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ঢাকা বিভাগে।

বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুমৃত্যু রোধে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, এর বেশি বয়সী শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ, ডুবে যাওয়া শিশুকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও মানুষকে সচেতন করার কর্মসূচি নেওয়া জরুরি। এতে খুব বেশি অর্থেরও প্রয়োজন হয় না। কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে ডে-কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে একটি শিশুকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত (পরিবারের সবাই কাজে থাকায় যে সময় শিশু পানিতে পড়ে) নজরদারিতে রাখতে বছরে খরচ হবে আড়াই হাজার টাকা। একটি শিশুকে সাঁতার শেখাতে খরচ হবে সর্বোচ্চ ৯০০ টাকা।



সাতদিনের সেরা