kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

ঈদের আগে নিখোঁজ, ঈদের পর মিলল লাশ

ওমর ফারুক   

২৩ জুলাই, ২০২১ ১৯:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদের আগে নিখোঁজ, ঈদের পর মিলল লাশ

নবম শ্রেণির ছাত্র ফেরদৌস হোসেন (১৭) ঈদের আগে গত সোমবার তুরাগ নদে সমবয়সী ১০ জনের সামনে থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। সেদিন তুরাগ নদে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিরা তাকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। চারদিন পর আজ শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় তার লাশ পাওয়া যায় বুড়িগঙ্গা নদীতে। নৌপুলিশের পাগলা ফাঁড়ির সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করেছে বলে ফেরদৌসের স্বজনরা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছে।

এ ঘটনায় ফেরদৌসের ভাই আল-আমিন গত ২২ জুলাই সাভার (নৌপুলিশ) থানায় একটি হত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই মামলায় ফেরদৌসের পূর্ব পরিচিত ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলো ইকরামুল ইসলাম (১৭), আবরার মাহির রাজিদ (১৭), শেখ সাহাদ হাসান (১৬), আল ফুয়াদ হাসান রিফাত (১৬), ফাহিল রহমান (১৭), মেহেদী হাসান মুন্না (১৬), আমির হামজা (১৬), আতিকুল ইসলাম আশিক (১৭), প্রদীপ কুমার মন্ডল (১৮) মোহাইমিনুল ইসলাম আবির (১৭) ও ইমতিয়াজ হাসান স্বপ্নীল (১৫)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি ইকরামুল ইসলাম ফেরদৌসকে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বিকাল ৩টার দিকে ইকরামুল ইসলাম মোবাইল ফোনে ফেরদৌসের ভাই হাসিবকে জানায়, আমরা গাবতলী গরুর হাটে এসেছিলাম। গরুর হাটের পাশে তুরাগ নদীতে (কয়লাঘাট) ফেরদৌস লাফ দিয়ে পড়ে যায় এবং তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এর পর ফেরদৌসের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান আসামি ইকরামুলের সঙ্গে অন্য ১০ আসামি রয়েছে। 

পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে ফেরদৌসের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ফেরদৌস সাঁতার জানে না বলা সত্বেও জোর করে আসামিরা তাকে নদীতে নামতে বাধ্য করে। আসামিরা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে প্রচার করে, ফেরদৌস বালিভর্তি ট্রলার থেকে লাফ দিয়েছে এবং আর উঠে আসেনি। কিন্তু আসামি ইমতিয়াজ হাসান স্বপ্নীল এর মোবাইল থেকে বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়। সেখানে কোথাও দেখা যায়নি ফেরদৌস ট্রালার থেকে লাফ দিয়েছে।

একটি ভিডিও ফুটেজের কিছু অংশে ফেরদৌসকে জুম করে দেখানো হচ্ছিল। যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত। যা আসামিরা সুকৌশলে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া আসামি আবরার মাহির রাজিদ আগে একবার ফেরদৌসের গলায় ছুরি চালায়। ফেরদৌস প্রতিরোধ করার জন্য হাত ব্যবহার করলে হাতের তালুতে জখম হয় এবং জখমের দাগ এখনো দৃশ্যমান। এ ছাড়া আসামি দ্বীপ কাগজপত্র ছাড়া একটি পুরনো মোটরসাইকেল বিক্রি করতে চেয়েছিল। ফেরদৌস মোটরসাইকেল কিনতে না চাইলে তাদের মাঝে বিরোধ শুরু হয়। এর জের ধরেই দ্বীপ তার ছোট ভাই ইমতিয়াজ হাসান স্বপ্নীল এর বন্ধু আবরার মাহির রাজিদকে দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করিয়েছিল। কিন্তু সেই বার ব্যর্থ হয়ে তারা নতুন করে হত্যার পরিকল্পনা শুরু করে। যারা ফলশ্রুতিতেই তারা হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

কালের কণ্ঠর কাছে থাকা ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আসামি রাজিদ আর ফেরদৌস গলা পানিতে রয়েছে। দু’জনই পানিতে ঝাপাঝাপি করছে। এ সময় তীরে থাকা কিছু তরুণের কণ্ঠ শোনা যায়। কেউ বলছিল -পানি খেয়েছে পানি খেয়েছে। কিন্তু এক সময় ফেরদৌস নিখোঁজ হয়ে যায়। ভিডিওতে রাজিদ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে এমন মনে হয়নি। যে কারণে ফেরদৌসের পরিবারের অভিযোগ সুকৌশলে ফেরদৌসকে হত্যার জন্য মিরপুরের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা