kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

স্পাইওয়্যার অ্যাপ ‘পেগাসাস’ ব্যবহার নিয়ে তোলপাড়

দেশের টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ অন্ধকারে

বিশেষ প্রতিনিধি   

২০ জুলাই, ২০২১ ০৩:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ অন্ধকারে

ইসরায়েলের তৈরি স্পাইওয়্যার অ্যাপ ‘পেগাসাস’ ব্যবহার করে সাংবাদিক, রাজনীতিক, মানবাধিকারকর্মীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্মার্টফোনে আড়ি পাতার ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর বিভিন্ন দেশে তোলপাড় শুরু হলেও বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনো অন্ধকারে। পেগাসাস যে ৪৫টি দেশে ছড়ানোর তথ্য এসেছে, এর মধ্যে বাংলাদেশের নামও রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। 

জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের টেলিযোগাযোগ আইনে ফোনে আড়ি পাতা অপরাধ। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য এটা বৈধ। তবে তার জন্য তাদের কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে। এ জন্য মোবাইল ফোন অপারেটররা তাদের সহযোগিতা করবে। মোবাইল অপারেটরা গ্রাহকদের ফোন কলের রেকর্ড ছয় মাসের জন্য সংরক্ষণ করে রাখে। সেই রেকর্ড থেকে প্রয়োজনে সহযোগিতা নেওয়ার বিধান আছে। এর বাইরে কোনো স্পাইওয়্যার কেনার আইনত সুযোগ নেই।’ 

উল্লেখ্য, দেশে  ফোনকলে আড়ি পাতা এবং তা প্রকাশ ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত সবার জন্যই নিষিদ্ধ ছিল। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধন করে এর ৯৭ক ধারায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার জন্য এর বৈধতা দেওয়া হয়।

এদিকে পেগাসাসের বিষয়টি আলোচনায় আসে প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংবাদ সংস্থা ফরবিডেন স্টোরিজ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অনুসন্ধানের ফল  থেকে। ২০১৯ সালে এই তদন্ত শুরু হয়। এই দুই সংগঠন যাদের স্মার্টফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল তাদের তালিকা ব্রিটেনের গার্ডিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট, ভারতের দ্য ওয়্যারসহ বিশ্বের ১০টি দেশের মোট ১৭টি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করে। তারা সবাই মিলে এই অনুসন্ধানের নাম দিয়েছে ‘পেগাসাস প্রজেক্ট’, যাতে ৮০ জনেরও বেশি সাংবাদিক যুক্ত ছিলেন। তাঁদের দাবি, পেগাসাস নামের স্পাইওয়্যার অ্যাপ যা সাধারণত জঙ্গি কার্যকলাপের ওপর নজরদারি চালাতে বা সামরিক গোয়েন্দাদের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেই অ্যাপ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওপর গোপন নজরদারি চলছিল। ২০০৯ সালের অক্টোবরে ফেসবুকের মালিকানাধীন সংস্থা হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, চারটি মহাদেশের প্রায় এক হাজার ৪০০ জনের মোবাইল পেগাসাসের মাধ্যমে হ্যাক করা হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের জাতীয় রাজনীতি সরগরম পেগাসাস কাণ্ডে। সেখানে ইসরায়েলি এই স্পাইওয়্যার সরকার ও বিরোধী পক্ষের নেতা, মন্ত্রী থেকে শুরু করে ৪০ জনের বেশি সাংবাদিক, শিল্পপতি, সমাজকর্মী, বিচারপতিদের ফোন হ্যাক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীরা আবার অভিযোগ তুলেছে সরকারের বিরুদ্ধে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি সংস্থা এনএসওর দাবি, নিরাপত্তার জন্য নজরদারি চালানোর প্রযুক্তি তৈরি করাই তাদের কাজ। তারা শুধু বিভিন্ন দেশের সরকার, সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে পেগাসাস স্পাইওয়্যার বিক্রি করেছে।



সাতদিনের সেরা