kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

২৪ বছরের চেষ্টায় মিলল অপহৃত ছেলে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জুলাই, ২০২১ ০৩:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৪ বছরের চেষ্টায় মিলল অপহৃত ছেলে

চীনে এক ব্যক্তি ২৪ বছর ধরে খোঁজাখুঁজি করার পর অবশেষে তাঁর অপহৃত সন্তানকে ফিরে পেয়েছেন। এ জন্য একটি মোটরবাইকে চড়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পাঁচ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি পথ ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি। শ্যানডং প্রদেশে গুয়ো গানতাংয়ের বাড়ির সামনে থেকে মানবপাচারকারীরা তাঁর দুই বছর বয়সী ছেলেকে অপহরণ করেছিল ১৯৯৭ সালে।

তাঁর সন্তানের এই নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হংকংয়ে ২০১৫ সালে একটি বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, যাতে সুপারস্টার অ্যান্ডি লাও অভিনয় করেছিলেন। শিশু অপহরণ চীনের একটি বড় সমস্যা এবং দেশটিতে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু অপহরণের ঘটনা  ঘটে।

চীনের জননিরাপত্তাসংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে গুয়ো গানতাংয়ের সন্তানকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। এই অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আটক এই দুই ব্যক্তির একজন নারী এবং অপরজন পুরুষ। বলা হচ্ছে, অপহরণের ঘটনার সময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

চায়না নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি একটি শিশু অপহরণ করার পরিকল্পনা করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল অর্থের বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া। তাঁরা গানতাংয়ের সন্তানকে বাড়ির বাইরে খেলতে দেখেন। তখন সন্দেহভাজন নারী শিশুটিকে চুরি করে একটি বাসস্টেশনে নিয়ে যান, যেখানে তাঁর পুরুষ বন্ধু অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা চুরি করা বাচ্চাটিকে নিয়ে একটি ইন্টারসিটি বাসে ওঠেন। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হেনান প্রদেশে এবং সেখানে বাচ্চাটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

১৯৯৭ সালের এই ঘটনার পর সন্তানের খোঁজে মোটরবাইকে করে সারা দেশে চষে বেড়িয়েছেন গানতাং। যেখানেই ক্লু পেয়েছেন, সেখানেই ছুটে গেছেন। সন্তানের খবর পেয়ে মোটরবাইক নিয়ে ২০টিরও বেশি প্রদেশে গেছেন তিনি। গানতাং তাঁর মোটরবাইক নিয়ে দুর্ঘটনায়ও পড়েছেন। তাঁর শরীরের হাড় ভেঙে গেছে। এমনকি মহাসড়কে চলার সময় পড়েছেন ডাকাতের কবলেও। এ রকম ছোটাছুটি করতে গিয়ে তাঁর ১০টি মোটরবাইক নষ্ট হয়ে গেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়ানোর সময় নিখোঁজ সন্তানের কথা উল্লেখ করে ব্যানারও বহন করেছেন গানতাং। এতে ছেলের ছবিও লাগানো ছিল। রাতের বেলায় সেতুর নিচে ঘুমিয়েছেন। ভিক্ষা করে পাওয়া অর্থ দিয়ে খাবার কিনে খেয়েছেন। সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা