kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

ট্রিপল মার্ডার: ফাঁসির আসামির মৃত্যুতে আপিল বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০২১ ১৭:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রিপল মার্ডার: ফাঁসির আসামির মৃত্যুতে আপিল বাতিল

নীলফামারীতে ষোলবছর আগের একটি ট্রিপল হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলী কারাবন্দী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় ফাঁসির সাজার বিরুদ্ধে তার করা আপিল আবেদন মৃত্যুজনীত কারণে বাতিল করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গতকাল বৃহষ্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসিনা আক্তার।

গত ১৩ জুলাই এই মামলার শুনানিতে প্রশ্ন উঠেছিল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপক্ষের দূর্বল দিক আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারেন কীনা? প্রধান বিচারপতি বলেছেন, একমাত্র অ্যাটর্নি জেনারেলকেই সংবিধানে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অন্য কেউ এটা করতে পারেন না। মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের দুর্বল দিক তুলে ধরেছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর। এ প্রশ্ন ওঠায় মামলার নথি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে নিয়ে অ্যাটর্নি অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনের কাছে পৌছে দেওয়া হয়। পরদিন ১৪ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিকালে আদালতকে জানান, ওই আসামি অসুস্থ হয়ে গেলে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২০ সালের ২৯ আগষ্ট কারাগারে মারা গেছেন। তার ছেলে লাশ গ্রহণ করে। এরপর আদালত শুনানি মূলতবি করে প্রয়োজনীয় ডকুমেনট দাখিলের নির্দেশ দেন। এ আদেশে আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয়। এ অবস্থায় গতকাল সকালে আদালত মৃত্যুজনীত কারণে আসামির আপিল খারিজ করে দেন।

জানা যায়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোসাইগঞ্জ পাবনাবাড়ী গ্রামে ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল রাত দেড়টায় মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম(৪০) এবং দুই মেয়ে জবা(১২) ও শোভা(৮) খুন হয়। এছাড়া সাড়ে চারবছরের আরেক মেয়ে সুমী মারাত্মক আহত হয়। চিকিৎসার পর সুমী সুস্থ হয়ে যায়। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় জবান আলী ২৮ এপ্রিল ডোমার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উল্টো জবান আলীকেই ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে জবান আলীর বিরুদ্ধে ওইবছরের ৩১ মে একটি হত্যা মামলা করে। এ মামলায় পুলিশ জবান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর এ মামলায় নীলফামারীর আদালত জবান আলীকে মৃত্যুদন্ড দেয়। হাইকোর্ট তা বহাল রাখেন। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। এই আপিল শুনানির সময় তার মৃত্যুর সংবাদ আদালতের সামনে উপস্থাপিত হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আপিল বিভাগ জেল আপিলটি বাতিল (অ্যাবেট) করে ডিসমিস আদেশ দেন।



সাতদিনের সেরা