kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

বিদায়ী অনুষ্ঠানে বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী

‘বিচারালয় যেন বাণিজ্যালয় হিসেবে পরিণত না হয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুলাই, ২০২১ ১৮:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বিচারালয় যেন বাণিজ্যালয় হিসেবে পরিণত না হয়’

আপিল বিভাগের বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী অবসরে যাচ্ছেন আগামী ২৮ জুলাই। তবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবকাশকালীন ছুটি থাকায় আজ বৃহস্পতিবার ছিল বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীর শেষ কর্মদিবস। এ কারণে তাঁকে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী বিচার বিভাগকে সুরক্ষিত রাখতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের বিচার বিভাগ স্বর্গীয় আশ্রয়স্থল। এই বিচারালয় যেন কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যালয় হিসেবে পরিণত না হয়। এটা বার (আইনজীবী) ও বেঞ্চকে (বিচারক) শক্তভাবে রুখতে হবে।

সংবিধান অনুযায়ী একজন ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে থাকতে পারেন। বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সেই হিসেবে আগামী ২৮ জুলাই তার বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। কিন্তু আগামী ১৮ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে ছুটি থাকায় আজ বৃহস্পতিবার ছিল বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীর শেষ কর্মদিবস। একারণে প্রথা অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়। এ সময় প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের অপরাপর বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরাও যুক্ত ছিলেন। প্রথমে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও পরে সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীর ৪১ বছরের কর্মজীবন সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে বক্তব্য দেন। শেষে বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীও বক্তব্য দেন।

বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, আইনের শাসন ছাড়া কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। বাংলাদেশের উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা চলছে তার সফল অংশীদার হবে এই বিচার বিভাগ। তিনি বলেন, আসুন আমরা একটি সুস্থ, সরল, স্বচ্ছ জবাবদিহীমূলক বিচার বিভাগের অবকাঠামো রচনা করে যাই। আজ আমার বিচারিক জীবনের ইতি টানছি।

বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীর পিতা মরহুম আব্দুল গফুর মোল্লা, মা-নুর জাহান বেগম। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এলএলবি সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। এর একবছর যেতে না যেতেই ১৯৮০ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি মুনসেফ হিসেবে বিচারিক জীবন শুরু করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ৭ মে জেলা জজ হিসেবে পদন্নোতি পান। ২০০৯ সালের ৩০ জুন তিনি হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ৬ জুন স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি আপিল বিভাগে বিচারিক কাজ পরিচালনা করে আসছিলেন। তার আপন ছোট ভাই বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীও আপিল বিভাগের বিচারক। বাংলাদেশের ইতিহাসে আপন দুইভাইয়ের একসঙ্গে আপিল বিভাগের বিচারপতি পদে থাকা এই প্রথম কোনো ঘটনা। বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী নিজে একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা। তার পিতাও মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন।



সাতদিনের সেরা