kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

ফেসবুক থেকে পোস্ট সরাতে নির্দেশ

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি ফেসবুকে, আইনজীবীকে সুপ্রিম কোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুলাই, ২০২১ ১৬:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি ফেসবুকে, আইনজীবীকে সুপ্রিম কোর্টে তলব

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের পদত্যাগ চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল ইসলামকে তলব করেছেন আপিল বিভাগ। তাকে আগামী ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে নয়টায় আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে স্বশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলামের নামে থাকা সকল ফেসবুক একাউন্ট ব্লক করতে এবং প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে দেওয়া পোস্টটি অবিলম্বে ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে দেওয়া এই পোস্ট আদালত অবমাননাকর। এটা সরাসরি প্রধান বিচারপতি তথা সুপ্রিম কোর্টের ওপর আঘাত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৬ বিচারপতির বেঞ্চ বৃহষ্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশ পড়ে শোনান আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী।

এর আগে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট আপিল বিভাগের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, মাই লর্ড, একটি বিষয় আপনাদের নজরে আনতে চাই। একজন আইনজীবী প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল পোস্টটি পড়ে শোনান। ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘আমি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চাই। কারন যেখানে মাননীয় বিচারপতি গন তাদের স্ব স্ব থাকার জায়গায় বসে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারতেন এবং পারেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি মহোদয় সে ব্যবস্থা না করে, আইনজীবী এবং তাদের পরিবার-পরিজনকে জীবন-ধারনের চরম সংকটে পতিত করেছেন, অতএব, এই মহান দায়িত্বে থাকার কোন উনার অধিকার নাই।’

এসময় প্রধান বিচারপতি জানতে চান, ওই আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে তালিকাভূক্ত কীনা। এসময় আপিল বিভাগে যুক্ত থাকা অপরাপর আইনজীবীরা বলেন, ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম একসময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি হাইকোর্ট বিভাগে তালিকাভূক্ত।

এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনা। একা সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হতে পারে। এজন্য সিনিয়র সব বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, গতবছর আপনাদের অনুরোধে আদালত খোলা রাখা হলো। এতে কিছু আইনজীবী আমাকে অকথ্য ভাষায় কোট বন্ধ রাখতে বললেন। আবার এক গ্রুপ খোলা রাখার জন্য বলতে লাগলেন। বাধ্য হয়ে ভার্চুয়ালি আদালত খোলা হলো।

তিনি বলেন, বার (সমিতি) নেতৃবৃন্দ যখন যেটা বলেছেন, আমরা আইনজীবীদের সুবিধার জন্য সেটা করার চেস্টা করেছি। তিনি বলেন, সরকার চেয়েছিল কোর্ট বন্ধ রাখতে। কিন্তু আমরা বলেছি, কোর্ট বন্ধ বা খোলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে। এখন মনে হচ্ছে, সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেই হতো।

এসময় বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেস্টা করছি। সেখানে এ ধরণের পোস্ট অপ্রত্যাশিত। গতবছর আইনজীবীদের চাপে কোর্ট খুলে দিলাম। আবার আপনাদের কথায় বন্ধ করা হলো। আমরা পুতুল হয়ে গেছি।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, করোনায় অ্যাটর্নি জেনারেল, বার সভাপতিসহ অনেক আইনজীবী মারা গেছেন। এরপরও কোর্ট বন্ধ রাখা হয়নি। শুধুমাত্র আপনাদের সুবিধার জন্য। যেভাবে বিচার ব্যবস্থা চালু রাখা দরকার সেভাবেই রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় এ ধরণের পোস্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থা। কারণ প্রধান বিচারপতি কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসানও মন্তব্য করেন। এরপর আদেশ পড়ে শোনানো হয়। এসময় সুপ্রিম কোর্টের অনেক আইনজীবী ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা