kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

জুস ফ্যাক্টরিতে আগুন, ব্যবসায়ী সংগঠনের ভূমিকায় হাইকোর্টের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুলাই, ২০২১ ১৯:১৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জুস ফ্যাক্টরিতে আগুন, ব্যবসায়ী সংগঠনের ভূমিকায় হাইকোর্টের ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজিব গ্রুপের হাসেম ফুডস-এর সেজান জুস ফ্যাক্টরিতে আগুনে হতাহতের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ অপরাপর সংগঠনের নেতারা হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ না করায় এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করায় হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

হাইকোর্ট বলেছেন, এত জন শ্রমিক মারা গেলো। অনেকে আহত হলো। কিন্তু ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কোনো শোক বা বিবৃতি আমার চোখে পড়েনি। তাদের কোনো প্রতিনিধি দল গেল না। আদালত বলেন, তাদের কি ন্যুনতম দায়বদ্ধতা নেই? তারা আছে কিভাবে সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা নেবে আর ঋণ কিভাবে মাফ করা যায় তা নিয়ে।

সেজান জুস ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন-বোনাস পরিশোধের বিষয় রিট আবেদনকারীপক্ষে ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অনিক আর হক আদালতের নজরে আনলে আদালত এ মন্তব্য করেন। আদালত বলেন, পত্রপত্রিকায় দেখেছি, মালিক পক্ষ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে। সুতরাং এ বিষয়ে মনে হচ্ছে মালিকপক্ষ বেশ আন্তরিক আছে। তাই এ মুহুর্তে কোনো আদেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনারা অপেক্ষা করুন। যদি সবাইকে না দেয় তখন আদালতের নজরে আনবেন।

আদালত বলেন, গার্মেন্টসগুলোতে বিদেশিরা তদারকি করছে, তারা চাপ দিচ্ছে বলে তা ভাল চলছে। কিন্তু দেশের অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো চলছে কীনা তা দেখা এবং সেবিষয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। কোথায় কি দুর্বলতা আছে তা দেখা উচিত। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে তাদের পজিটিভ ভূমিকা দেখি না। আমার কাছে মনে হয়, দেশীয় এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও যতক্ষণ চাপ না দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ কাজ হবে না। তাই তাদের ওপর চাপ দেওয়া প্রয়োজন।

আদালত বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, তদারকি সংস্থা প্রতিষ্ঠানে যায় ঠিকই, কিন্তু সেখান থেকে খাম নিয়ে আসে। এই তদারকি সংস্থাকেও জবাবদিহীতার আওতায় আনা দরকার। রিট আবেদনকারীপক্ষকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, এসব জায়গাগুলোতে আপনাদের কাজ করার সুযোগ আছে।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন আহতদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দিতে নির্দেশনা চান। এ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, সরকার ও বিভিন্ন হাসপাতাল ফ্রি চিকিৎসা করছে। আপনার সুনির্দিষ্ট করে বুলুন কার কি সহায়তা লাগবে। তা যদি সরকার বা সংশ্লিষ্টরা না দেয় তখন আদালত হস্তক্ষেপ করবে। আপনারা সুনির্দিস্ট তথ্য দিন। ব্যবস্থা নিবো।

সেজান জুস ফ্যাক্টরিতে আগুনের ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য এককোটি টাকা এবং আহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিট আবেদনে এ শুনানি হয়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট(ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এবং সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি ওই রিট আবেদন দাখিল করে। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও বিপুল বাগমার।

গত ৮ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজিব গ্রুপের হাসেম ফুডসের সেজান জুসের কারখানায় আগুন লেগে ৫২ জন শ্রমিক নিহত হয়। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ২৫ জন। এই হতাহতের ঘটনায় ১০ জুলাই রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক (সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক) আবুল হাসেম, তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম, তারেক ইব্রাহীম, তাওসীব ইব্রাহীম, তানজীম ইব্রাহীম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহান শাহ আজাদ, উপমহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ ও প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। এরইমধ্যে এই আট আসামিকে গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।



সাতদিনের সেরা