kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

যেসব কারণে ২০ দলীয় জোট ছাড়ল জমিয়ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুলাই, ২০২১ ১৯:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেসব কারণে ২০ দলীয় জোট ছাড়ল জমিয়ত

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়ল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। আজ বুধবার দুপুরে দলটির পুরানা পল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন জমিয়তের উলামায়ে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া। তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করা জমিয়তের জন্য কল্যাণকর। আজ থেকে জোটের কোনো কার্যক্রমে জমিয়ত থাকবে না।

জোট ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে মাওলানা জাকারিয়া বলেন, জোটের শরিক দলের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, শরিকদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই উপনির্বাচন এককভাবে বর্জন করা, আলমদের গ্রেপ্তারে প্রতিবাদ না করা, প্রয়াত জমিয়ত মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমীর মৃত্যুতে বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা না জানানো এবং তার জানাজায় শরিক না হওয়া। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসা খুলে দেওয়া, কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা জিয়া উদ্দীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রগুলো বলছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিএনপি জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। এর আগে বুধবারও দলটির নেতারা বৈঠক করেন তাদের কার্যালয়ে। পরে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সূত্র মতে, হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় জমিয়তের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- জুনায়েদ আল হাবিব, শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মনজুরুল ইসলাম আফেন্দি, মনির হোসেন কাসেমী, খালিদ সাইফুল্লাহ সাদী ও মোহাম্মদ উল্লাহ জামী। এই সিদ্ধান্তে ফলে এ নেতাদের মুক্তি ত্বরান্বিত হবে বলে সূত্রের দাবি।

জানা গেছে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এখন দুই ভাগে বিভক্ত। উভয় অংশ বিএনপি-জোটের শরিক। ‘ভারপ্রাপ্ত’ হয়ে একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাওলানা জিয়াউদ্দিন (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) ও মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া (ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব)। এই অংশের সভাপতি মাওলানা আবদুল মোমিন গত বছর মারা গেলে মাওলানা জিয়াউদ্দিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান। এরপর এ বছর করোনা আক্রান্ত হয়ে নূর হোসাইন কাসেমীর ইন্তেকালের পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন মনজুরুল ইসলাম আফেন্দি। যিনি গত এপ্রিল থেকে হেফাজতের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আফেন্দির অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নিবন্ধন নং ২৩। ২০০১ সালে সংগঠনটি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটির দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আরেকটি অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন- মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে সভাপতি ও মুফতি শেখ মুজিবুর রহমানকে মহাসচিব।



সাতদিনের সেরা