kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুলাই, ২০২১ ১৮:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দায়ী সকলকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। আজ বুধবার জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে ভস্মিভূত সেজান জুস কারখানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ইউসিএলবি’র সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভুইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, সিপিবির আব্দুল্লাহ কাফি রতন, বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আব্দুল আলী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, এপর্যন্ত কোন অগ্নিকা-ের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও শাস্তি না হওয়ায় একের পর এক শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এর অবসান হওয়া দরকার। অগ্নিকা-ের জন্য দায়ী মালিক ও কারখানা পরিদর্শকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের শাস্তি; নিহত শ্রমিকদের পরিবার প্রতি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহত শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান; নিখোঁজ শ্রমিকদের খুঁজে বের করা এবং নিহত-আহত-নিখোঁজ শ্রমিকদের প্রকৃত তালিকা প্রকাশ করার দাবি জানান তারা।

দাবি আদায়ে ঈদের আগেই কারখান গেটে শ্রমিক জনসভা ও ঈদের পর শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচী পালন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। আরো জানানো হয়, গত ১২ জুলাই বাম জোটের একটি প্রতিনিধি দল রূপগঞ্জের কর্ণঘোপে সেজান জুস কারখানা সরজমিন পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ দেখেন কারখানাটি চলছিল সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। বিল্ডিং কোড মানা হয়নি ভবন নির্মাণে, অগ্নি নির্বাপনের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। সিড়ি অপ্রশস্ত, অন্ধকার এবং তালাবদ্ধ ছিলো। নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের দিয়ে কাজ করানো হতো। অর্থাৎ শ্রম আইন, শিল্প আইন কোন কিছুরই তোয়াক্কা করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৫ বছরে গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানায় ৫ হাজার ৮৩৪টি অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধস, বিস্ফোরণের কোন ঘটনার বিচার বা শাস্তি হয়নি। সরকারের তদারককারী সংস্থার অবহেলা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে আইন না মেনে কারখানা চালু রাখার দুঃসাহস দেখাতে পারে মালিকেরা। ফলে সরকারিভাবে ৩/৪টি তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তার প্রতি জনগণের কোন আস্থা নেই। তাই নিরপেক্ষ বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করতে হবে।



সাতদিনের সেরা