kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

বেতন বোনাস ছুটি ইস্যুতে শঙ্কা শ্রমিক অসন্তোষের

এম সায়েম টিপু    

১৪ জুলাই, ২০২১ ০২:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেতন বোনাস ছুটি ইস্যুতে শঙ্কা শ্রমিক অসন্তোষের

পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র ছয় দিন। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে তৈরি পোশাক খাতের অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি ও বোনাস পরিশোধ করেনি। এ ছাড়া গত ঈদুল ফিতরের সময় ছুটি নিয়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও কারখানায় কাজ বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেছে। গত ঈদে করোনা সংক্রমণ রোধে তিন দিনের ছুটি এবং কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা ছিল সরকারের। কিন্তু এবার সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় আসন্ন ঈদেও শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গতকাল তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ, শ্রমিক সংগঠন এবং সরকারের নজরদারির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেন, চলতি মাসের ১২ তারিখের মধ্যে গত জুন মাসের মজুরি এবং বোনাস দেওয়ার জন্য মালিক ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হলেও অনেক কারখানা জুনের মজুরি পরিশোধ করেনি। বোনাস ও ঈদের ছুটি নিয়েও কোনো বক্তব্য নেই।

এদিকে গতকাল শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাসসহ সব পাওনা পরিশোধে মালিকদের নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি বলেছেন, ঈদের সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে গার্মেন্টসহ সব শিল্প খাতে শ্রমিকদের বদলি ছুটি পাওনা থাকলে কারখানা পর্যায়ে মালিক-শ্রমিক সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রম আইন অনুসারে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে শ্রমিকদের আগের মাসের মজুরি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেক কারখানার মালিক মজুরি পরিশোধ করেননি। লকডাউন আর ব্যাংকের কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতার অজুহাত তুলে তাঁরা বোনাস না দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। তাঁরা শেষ সময়ে বেসিকের সমান বোনাস না দিয়ে কিছু টাকা থোক হিসেবে ধরিয়ে দিয়ে শ্রমিকদের বিদায় করতে চান। আমাদের দাবি, জুলাই মাসেরও অর্ধেক মজুরি ঈদের আগেই পরিশোধ করা হোক।’

বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, ‘বেশির ভাগ কারখানায় মজুরি পরিশোধ করা হয়ে গেছে। বাকিগুলোও দু-এক দিনের মধ্যে বেতন দিয়ে দেবে। একই সঙ্গে ঈদের আগে প্রত্যেক শ্রমিকের বোনাসও নিশ্চিত করা হবে। আর ছুটি নিয়ে গত ঈদের মতো কোনো সংকট সৃষ্টিরও আশঙ্কা নেই। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। সরকার ছুটি ঘোষণার পর এর সঙ্গে শ্রমিকদের পাওনা ছুটি সমন্বয় করা হবে।’

তবে বিকেএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ছুটি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, মাসের প্রথম সাত কর্মদিবসে মজুরি দেওয়ার নিয়ম। সে অনুসারে বেশির ভাগ কারখানার মালিক জুন মাসের মজুরি দিয়েছেন। আর কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা মিলে ছুটির বিষয়টি সমন্বয় করলেই ভালো। সরকার নির্দেশনা দিলে উল্টো সংকট তৈরি হয়।

শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, প্রায় ছয় শ কারখানা এখনো শ্রমিকদের মজুরি দেয়নি। অনিয়মিত ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের এসব কারখানা ঈদের আগে কোনো রকমে একটা থোক টাকা দিয়ে শ্রমিকদের বিদায় করে। এসব কারখানায় বোনাস ও বকেয়া মজুরি নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (গাজীপুর) বেলাল আহমেদ বলেন, সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউনের মাঝেও গাজীপুরে প্রায় আড়াই হাজার কারখানা চালু রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ১০০ কারখানা এখনো শ্রমিকদের জুন মাসের মজুরি দেয়নি। অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানে মজুরি অনিয়মিত। তারা ধাপে ধাপে মজুরি পরিশোধ করে। ফলে ঈদের আগে এখানে প্রায় ১১০টি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করেনি। ঈদের আগেই বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর মাধ্যমে মালিকদের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করি। ঈদ সামনে নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ সতর্ক। তবে এই শ্রমিক অসন্তোষের মাত্রাটা গত ঈদুল ফিতরের চেয়ে কম।’



সাতদিনের সেরা