kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

১৫-২২ জুলাই লকডাউন শিথিল

চলবে বাস ট্রেন লঞ্চ

খুলবে শপিং মল দোকানপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুলাই, ২০২১ ০৩:২০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চলবে বাস ট্রেন লঞ্চ

ঈদুল আজহা সামনে রেখে চলমান লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে বিভিন্ন বিষয়ে সরকার আরোপিত বিধি-নিষেধ আগামী ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত শিথিল করা হবে। গতকাল সোমবার তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কোনো ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি না-ও হতে পারে।

এদিকে চলমান লকডাউনের মেয়াদ আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত আছে। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে লকডাউন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিথিল হয়ে যাবে। আজ মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে মূলত ঈদের পরের ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের বিষয়ে। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফের থাকবে কঠোর লকডাউন। তাই যারা ঈদে গ্রামের বাড়ি যাবে, তারা যাতে আগে থেকেই সরকারি বার্তা পায়, সে লক্ষ্যেই আগেভাগে ঈদের পরের লকডাউনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন আজ জারি করা হবে।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, শিথিল লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে সব ধরনের গণপরিবহন। শপিং মল ও দোকানপাটও খোলা থাকবে সীমিত পরিসরে। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলবে কি না, তা কোনো সূত্রই নিশ্চিত করতে পারেনি। সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি কাজের জরুরি অফিসগুলো কঠোর লকডাউনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ করছে। এর বাইরে অন্য অফিসের কাজ চালাতে গত রবিবার ভার্চুয়াল অফিস চালাতে বলা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, বৃহস্পতিবার লকডাউন উঠে গেলে পরের দুই দিনই সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর ঈদের ছুটির আগে দুই দিন থাকে রবি ও সোমবার। ঈদভাঙা এই সময়ের জন্য আলাদা কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হবে না। বেসরকারি অফিসগুলো তো নিজেদের মতোই  চালাচ্ছে। সরকারি অফিসও প্রয়োজনমতো কাজ করবে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি লকডাউন তুলে নেওয়ার মতো নয়, এটা সত্য। কিন্তু কোরবানির ঈদে মানুষকে চাইলেও আটকে রাখা যাবে না, এটাই বাস্তবতা। এসব চিন্তা করেই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সচিবালয়ের একটি সূত্র জানায়, চলমান লকডাউন পর্যায়ক্রমে ঢিলা হচ্ছে। সরকারের সব সময় বৈজ্ঞানিকভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। এত বেশি কঠোর লকডাউনে গেলে সরকারকে বাজে পরিস্থিতি সামলাতে হতে পারে। এসব চিন্তা করেই সরকার ঈদ ঘিরে সাত দিনের জন্য ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে আন্ত নগর ট্রেন চলাচল করবে। এ ব্যাপারে গতকাল সন্ধ্যায় রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ট্রেন চলাচল করবে। এ ক্ষেত্রে টিকিট শুধু অনলাইনে মিলবে। কাউন্টারে কোনো টিকিট দেওয়া হবে না। বাকি সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপনের আলোকে নেওয়া হবে।’ এদিকে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিচালন) সরদার শাহাদাত আলী বলেন, আজ বিকেল থেকে অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

শিথিল লকডাউনে বাস চলবে কি না সে বিষয়ে চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি। গতকাল সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতউল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা টিভিতে  দেখছি যে ১৫ তারিখ থেকে সব চলবে। তবে আমরা এখনো অফিশিয়ালি কোনো চিঠি পাইনি।’

এদিকে শিথিল লকডাউনে লঞ্চ চলাচল করবে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিদ্ধান্ত দেবে। গতকাল দুপুরে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডাব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধিবিষয়ক একটি কমিটি রয়েছে। তারা লঞ্চ চলাচলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে দোকান খোলার পক্ষে নয় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কোরবানির ঈদে এমনিতেই আমাদের তেমন ব্যবসা থাকে না। এ ছাড়া এখন করোনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফলে এই অবস্থায় আমরা দোকান মালিক সমিতি দোকান খোলার পক্ষে নই। আগেই আমাদের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। দোকানের মধ্যে থাকা মালগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেভাবে মৃত্যু বাড়ছে, এ অবস্থায় দোকানপাট খুলে দেওয়ার কথা বলার সাহস আমাদের নেই। গত ঈদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা দোকান খুলেছিলাম। তখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন নিয়ন্ত্রণে নেই। দোকান খুললে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে, ভাড়া দিতে হবে। কিন্তু এত কম সময়ের জন্য দোকান খুলে এত টাকা দেওয়া কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে আমরা এখন চুপচাপ থাকতে চাই। সরকার যেভাবে চায়, আমরা সেভাবেই চলতে চাই।’

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১ জুলাই থেকে সরকারি ভাষায় কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করা হয়। চলমান লকডাউন আগামীকাল পর্যন্ত নির্ধারিত আছে।



সাতদিনের সেরা