kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

রাজধানীতে সিপিবির বিক্ষোভ

কারখানা মালিকের পাশাপাশি দপ্তর প্রধানদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি

অনলাইন ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০২১ ১৭:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কারখানা মালিকের পাশাপাশি দপ্তর প্রধানদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ দেশের অধিকাংশ কারখানাকে শ্রমিকের মৃত্যুফাঁদ উল্লেখ করে বলেছেন, অতীতে অগ্নিকাণ্ডে ও বিল্ডিং ভেঙে পড়ে শ্রমিক হত্যার ঘটনাগুলোর যথাযথ বিচার না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। তাই নারায়ণগঞ্জের সেজান কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুধু মালিককে নয়, সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তরের প্রধানদের গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। ওই ঘটনায় নিহত-আহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আজ সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সিপিবি ঢাকা কমিটির সভাপতি মোসলেহউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল, শ্রমিকনেতা কাজী রুহুল আমিন, সাবেক ছাত্র নেতা মানবেন্দ্র দেব, লুনা নূর, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, শংকর আচার্য, মনিষা মজুমদার, সেকেন্দার হায়াত, অর্ণব সরকার, মো. ফয়েজউল্লাহ, দীপক শীল প্রমূখ।

সমাবেশে মো. শাহ আলম বলেন, করোনা মহামারীতে মানুষ মাঠে নামতে পারছে না, এই সুযোগে দেশে বহু অপরাধ-অপকর্ম হচ্ছে। সেজান কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এদের ওপর ভরসা করা যায় না। তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি ও গণতদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। তিনি যার যার অবস্থান থেকে এ ধরণের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, লুটেরা শাসক গোষ্ঠীর উচ্ছেদ ছাড়া এসব সংকটের সমাধান হবে না। এজন্য সারা দেশে গণসংগ্রাম, গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতন ঘটাতে হবে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সেজান কারখানায় যারা পুড়ে কয়লা হলো, তাদের অধিকাংশ শিশু-কিশোর। এই সমাজ ব্যবস্থায় বেঁচে থাকতে এই বয়সের শিশু-কিশোররা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। আর মালিক এই মৃত্যু নিয়ে ঔদ্যত্বপূর্ণ কথা বলছে। কারণ এসব মালিকরা ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় আছে। ভোটবিহীন সংসদে এরাই আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তিনি বলেন, শুধু মালিককে নয়, কারখানা পরিদর্শক সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সব দপ্তরের প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি সকল কালকারখানায় উপযুক্ত কর্মপরিবেশ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ডা. সাজেদুল হক রুবেল বলেন, অতীতে তাজরীন গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধ্বসে শ্রমিক হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা হলেও পরে তারা ম্ক্তু হয়ে নিরাপদ জীবন-যাপন করছে। গ্রেফতারকৃত মালিক হাসেম এর ক্ষেত্রে এ ধরণের ঘটনা ঘটবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে? তিনি বলেন, এ সরকার মালিকপক্ষের, শ্রমিক বিরোধী সরকার। তিনি গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করে অন্যায় অবিচার প্রতিরোধের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তৃতায় মোসলেহউদ্দিন বলেন, কারখানার নামে মৃত্যুফাঁদ বন্ধ না করা পর্যন্ত কমিউনিস্টরা তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে। তিনি করোনার মধ্যেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান।



সাতদিনের সেরা