kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

জুস কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় মাহমুদুর রহমান মান্নার বিবৃতি

‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও মেহনতি মানুষের নিরাপদ কর্মস্থল হয়নি’

অনলাইন ডেস্ক   

১০ জুলাই, ২০২১ ১৮:৪১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও মেহনতি মানুষের নিরাপদ কর্মস্থল হয়নি’

ফাইল ফটো

রূপগঞ্জের হাশেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫৩ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হবার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এরকম নৃশংস ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমরা দেশের মেহনতি মানুষের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে পারিনি। এই সময়ে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা কেউই এই দায় এড়াতে পারেন না।

এরকম নৃশংস ঘটনা ঘটা এই দেশে এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, অপশাসন, দুঃশাসনের কারণে লুটেরা স্বার্থান্বেষী পুঁজিবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে যারা কেবল মুনাফা বৃদ্ধির চেষ্টায় লিপ্ত। তারা শ্রমিকদের স্বার্থ এমনকি বেঁচে থাকার নিরাপত্তার কথাও ভাবে না। সেজান জুস কারখানায় শিশু শ্রমিক ছিল, ছিল না অগ্নি নির্বাপণ কিংবা জরুরি বহির্গমণ সিঁড়ি, মূল সিঁড়িও ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সরু। গ্রুপের চেয়ারম্যান এই ঘটনার দায় নেবেন না, কারণ তিনি তো আগুন লাগাননি। অথচ তার পুরো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি, পুরো ভবনই যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্মিত এবং পরিচালিত হচ্ছিল, তা তার বোধগম্য হয়নি।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকবার তদন্ত কমিটি গঠন হয়, কিন্তু অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না। কখনো সেই প্রতিবেদনই প্রকাশ পায়নি, কখনো প্রকাশিত হলেও সেই অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সেজান জুস কারখানার ঘটনার পরও তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এই তদন্ত প্রতিবেদন যেন সঠিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং যথাযথভাবে তা পালন করা হয়, সেই দাবি জানাচ্ছি।

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বিবৃতিতে বলেন, একটি কল্যাণ রাষ্ট্রই পারে দেশের শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থ, নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে। পুঁজিবাদের বিকাশের সাথে সাথে শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়ন কেবল একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের পক্ষেই সম্ভব৷ নাগরিক ঐক্য সেই কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়েই লড়াই করছে।



সাতদিনের সেরা