kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

‘লকডাউনে’ গ্রেপ্তার-আটক-জরিমানা : হিউম্যান রাইটস ফোরামের গভীর উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক   

৬ জুলাই, ২০২১ ১৮:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘লকডাউনে’ গ্রেপ্তার-আটক-জরিমানা : হিউম্যান রাইটস ফোরামের গভীর উদ্বেগ

লকডাউন চলাকালে নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষসহ সহস্রাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক ও জরিমানা করায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা এই উদ্বেগ জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ১ জুলাই থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সারা দেশে সাতদিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। গত চার দিনে শুধু ঢাকা শহরেই ২১০০ এর বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করে জরিমানা করা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬ এর ৬৯, ৭৭, ৭৮ এবং ১০০ ধারার অধীনে যা বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। আবার তাদের মধ্যে শ্রমজীবী মানুষসহ অনেকে যারা জরিমানা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের জেলে পাঠানো হয়েছে। শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকেই মূলত জীবিকার প্রয়োজনসহ বিভিন্ন অপরিহার্য কারণে বের হতে বাধ্য হয়েছিলেন; তাদেরকে আটক ও জরিমানার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ ছিল নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য। এর মধ্যে এমন অনেককে জরিমানা করা হয়েছে যাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী এবং তাদের সাপ্তাহিক আয় চলে যাচ্ছে জরিমানা বা আইনজীবীর ফিস পরিশোধ করতে গিয়ে। লকডাউনে কাজ না থাকায় তারা চূড়ান্ত বিপর্যয়ে পড়ছেন, অনেকেই জরিমানা দিতে পারছেন না। তাছাড়া মামলার জন্য যখন তারা আদালতে যাচ্ছেন সেখানেও নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা কমানো হচ্ছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে মওকুফ করা হচ্ছে। তবে যাদের জরিমানা প্রদান করতে হচ্ছে, যে পরিমাণেই হোক না কেন, তাদের জন্য তা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। আটককৃত ১৬জন এমন নিম্নবিত্ত ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।

এইচআরএফবি বলছে, এই করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত কারাগারে ভিড় কমানো, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এই ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি, কারাগারের অবস্থা এবং অভিযোগকৃত ব্যক্তিদের ওপর যে তীব্র অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে তাদেরকে জরিমানা না করা বা কারাগারে না পাঠানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছে এইচআরএফবি। 

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ফোরামের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবিও জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলে- প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত বিধি-নিষেধসমূহ আরো স্পষ্ট বা সাধারণের বোধগম্য করে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা করা; করোনার কারণে দেশে জনগোষ্ঠীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ জীবিকা হারিয়ে এরই মধ্যে দুর্দশায় রয়েছে। লকডাউনের কারণে শ্রমজীবী মানুষরা কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। সরকারের উচিত এ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত জরুরি খাদ্য ও নগদ ত্রাণ নিশ্চিত করা, যাতে করে জীবিকার তাগিদে তাদের ঘর থেকে বের হতে না হয়; আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাস্ক বিতরণের জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় তহবিল প্রদান করা; পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমজীবী মানুষদের জরিমানা মওকুফ করা; বিদ্যমান পরিস্থিতি, কারাগারের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে অভিযুক্ত শ্রমজীবী ব্যক্তিদের জরিমানা না করা ও কারাগারে না পাঠানো; ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সসহ অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য যেসব আইন রয়েছে তার যেন অপপ্রয়োগ না হয় সে বিষয়ে তদারকি করা।



সাতদিনের সেরা