kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

বাম গণতান্ত্রিক জোটের দাবি

‘আমলাদের ওপর নির্ভরশীল সরকার করোনা প্রতিরোধে চরম ব্যর্থ’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুলাই, ২০২১ ১৮:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আমলাদের ওপর নির্ভরশীল সরকার করোনা প্রতিরোধে চরম ব্যর্থ’

আমলাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে সরকার করোনা প্রতিরোধে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে দাবি করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক ভার্চুয়াল সভা এই দাবি করে বলা হয়, সরকার বাম জোটের প্রস্তাব আমলে নেয়নি। এমনকি দলীয় লোক, মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের এ কাজে সম্পৃক্ত করেনি। যে কারণে সংকট বেড়েছে।

রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাম জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদক মনীর উদ্দিন পাপ্পু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবির সাজ্জাদ জহির চন্দন ও কাফী রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, ইউসিএলবি’র অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমূখ।

গভা গৃহীত প্রস্তাবে সারাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ হার ও মৃত্যু সংখ্যা ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সাথে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত টেস্ট, চিকিৎসা ও টিকা প্রদানে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, করোনায় মানুষের মৃত্যুর দায় সরকার কোনভাবেই এড়াতে পারে না। আর সাতক্ষীরা ও বগুড়ায় ৭ জন করে মোট ১৪ জন করোনা রোগী অক্সিজেন না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়, এমনকি সরকার কোনমতেই এড়াতে পারে না। আরো বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে নড়াইল সদর হাসপাতালে ২০০টি নেসাল ক্যানুলা রয়েছে, অথচ সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, নেসাল ক্যানুলা আছে ২টি। তাও এখনো ব্যবহার করা যায়নি। এ সকল ঘটনায় দেশের স্বাস্থ্য খাত ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ভঙুর দশা ফুটে উঠেছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, বাম জোটের পক্ষ থেকে গত বছর এপ্রিলেই সরাকরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল করোনা মহামারীকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠন বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, সমাজের বিভিন্ন অংশের শ্রেণি পেশার মানুষদের নিয়ে সর্বদলীয় জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের। একই সাথে সেনা বাহিনীর মেডিকেল টিম যাদের দক্ষতা রয়েছে তাদেরকে দিয়ে ফিল্ড হাসপাতাল করে দৈনিক কমপক্ষে এক লক্ষ টেস্ট, বিনামূল্যে চিকিৎসা, আইসোলেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার। কিন্তু সরকার সে দাবি শুনেনি।
প্রস্তাবে বলা হয়, শুধু বিদেশ থেকে টিকা ক্রয় নয়, সরকারের অদুরদর্শীতার কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল বায়োটেকের বঙ্গভ্যাক্স টিকা নিয়েও তুঘলকি কাণ্ড চলেছে। অতিউচ্চ সংক্রমিত জেলাসমূহে জরুরি ভিত্তিতে অবিলম্বে ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি, হাসপাতালগুলোতে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু, পর্যাপ্ত নেসাল ক্যানুলা, আইসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া অতি সংক্রমিত জেলাসমূহে দ্রুত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।



সাতদিনের সেরা