kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

এসিডদগ্ধ অসহায় মেয়েটির পাশে তোফায়েল আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক   

৪ জুলাই, ২০২১ ১৩:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এসিডদগ্ধ অসহায় মেয়েটির পাশে তোফায়েল আহমেদ

অসহায় সীমার হাতে অনুদানের টাকা তুলে দিচ্ছেন তোফায়েল আহমেদ।

হবিগঞ্জের এসিডদগ্ধ অসহায় সীমার পাশে দাঁড়িয়েছেন বরেণ্য রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ইতিমধ্যে সীমার হাতে এক লাখ টাকা তুলে দিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, খুব অল্প বয়সে বাবার ছোড়া এসিডে দগ্ধ হন সীমা। এতে তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায়। ২০১০ সালে সীমার যখন স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স হয়, তখন কোনো প্রতিষ্ঠান প্রথমে তাকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন তাকে নিয়ে প্রতিবেদন সম্প্রচার করে। এরপর অনেকের আর্থিক সহায়তায় সীমার পড়াশোনা শুরু হয়। তবে মহামারি করোনার প্রকোপে তার পড়াশোনা আবারও হুমকির মুখে পড়ে।

এবারও সীমার বিষয়টি নিয়ে ওই বেসরকারি টেলিভিশনে প্রতিবেদন সম্প্রচারিত হয়। এবার সীমার আর্থিক অসংগতি ও অসহায়ত্বের বিষয়টি নজরে আসে বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের। এরপর তিনি তার প্রতিষ্ঠিত তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সীমাকে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেন।

সেই মোতাবেক সীমাসহ তার পরিবারকে রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে ডেকে পাঠান তোফায়েল আহমেদ। তারপর সীমার হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেন। পাশাপাশি তোফায়েল আহমেদ জানান, প্রতি মাসে তার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন থেকে সীমাকে পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। যাতে সীমার পড়ালেখার খরচ চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।

তিনি আরো জানান, উচ্চশিক্ষা বা সীমা যে পর্যন্ত লেখাপড়া করতে চান সেই পর্যন্ত সীমাকে আর্থিক সহায়তা করা হবে।

এদিকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর সীমা বলেন, তিনি ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চান। যাতে সহজেই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।

এর আগে গত ২০ জুন নিজের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি ফাউন্ডেশনে দান করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ। সে সময় তিনি বলেন, আমার যা কিছু আছে সবই ফাউন্ডেশনে যাবে। ভোলায় একটা ফার্ম (খামার) আছে, সেটি বিক্রি করে যে টাকা আসবে তা ফাউন্ডেশনে দান করা হবে। আমি জনগণের কল্যাণে কাজ করি। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই দরিদ্র মানুষের সেবায় মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ করা হচ্ছে, পরিচালিত হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রম, শিক্ষাবৃত্তি।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে মায়ের নামে বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে। মা-বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে আজাহার ফাতেমা মেডিক্যাল কলেজ। ওই কলেজের দায়িত্বে রয়েছে মেয়ে ডা. তাসলিমা মুন্নী। ওই হাসপাতালও ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যেখানে বিনা টাকায় গরিব মানুষ চিকিৎসাসেবা পাবে।



সাতদিনের সেরা