kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

সবিশেষ

কভিডে অক্সিজেন কমে গেলে...

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুলাই, ২০২১ ০২:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কভিডে অক্সিজেন কমে গেলে...

কভিড-১৯ মানুষের শরীরে যেসব ক্ষতি করে তার একটি হচ্ছে অনেকেরই রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। একজন সুস্থ ব্যক্তির রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা থাকা উচিত ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ। অক্সিজেনের মাত্রা খুব সহজে পরিমাপ করার জন্য এখন বহু মানুষের ঘরেই রয়েছে অক্সিমিটার। অক্সিজেন ৯০-এর নিচে নেমে গেলেই সমস্যা শুরু। মাত্রা বেশি কমে গেলে রোগীকে ন্যাজাল ক্যানুলা দিয়ে অক্সিজেন দেওয়ার দরকার পড়ে। কিন্তু দরকারের সময় যদি ঘরে অক্সিজেন না থাকে তখন রোগী কিছুটা হলেও শারীরিকভাবে স্বস্তি পেতে পারেন এ রকম কয়েকটি সহজ টিপস দিয়েছেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ড. কাজী সাইফুদ্দিন বেননুর। তিনি জানাচ্ছেন, আঁটসাঁট পোশাকে এমনিতেই শ্বাস নিতে অনেকের সমস্যা হয়। বুক ভরে শ্বাস নেওয়া যায় না, কারণ এমন পোশাকে ফুসফুসের পেশি প্রসারিত হতে বাধাগ্রস্ত হয়। কভিড রোগীর শরীরে অক্সিজেন কমে গেলে শুরুতেই পরনের পোশাক ঢিলা করে নিতে হবে।

রোগী নিজে যদি একা থাকে বা অন্য কেউ যদি তাকে সাহায্য করে তাহলে কেউই তাড়াহুড়া করা যাবে না। শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। হাঁটাচলা এমনকি কিছু খেলেও শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা আরো বেড়ে যায়। তাই হাঁটাচলা বন্ধ করে স্থির থাকতে হবে; কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

রোগীকে বিছানায় উপুড় করে শুইয়ে দিতে হবে। বুকের ওপর শুয়ে ধীরে ধীরে লম্বা শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাতে উপকার পাওয়া যায়, কেননা ফুসফুসের একটি বড় অংশ মানুষের শরীরের পিঠের দিকে অবস্থিত। উপুড় হয়ে শোয়ার ফলে ফুসফুসের পিঠের দিকের অংশ সহজে অক্সিজেন পায়। এতে কিছুটা উপকার পেতে পারে করোনা রোগী।

ফুসফুস সুস্থ রাখতে ইদানীং চিকিৎসকরা সবাইকে ফুসফুসের ব্যায়াম করতে পরামর্শ দিচ্ছেন। সুস্থ ব্যক্তিদেরও এই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কেননা করোনাভাইরাস ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। কভিডে আক্রান্ত রোগীরাও শ্বাসকষ্ট হলে শ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। শ্বাসের একটি ব্যায়াম হলো, রোগীকে লম্বা করে নাক দিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নিতে হবে। সাত থেকে ১০ সেকেন্ড অথবা যতক্ষণ সম্ভব ফুসফুসে বাতাস ধরে রাখতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়তে হবে। এই ব্যায়াম বেশ কয়েকবার করতে হবে।

শ্বাসকষ্ট হলে আশপাশ থেকে মানুষজনকে সরিয়ে দিতে হবে। মানুষের ভিড়ে ঘরে অক্সিজেন কমে গিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যায়। ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে।

তবে যদি পরিস্থিতি খারাপ হয় তাহলে অক্সিজেন দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে হাসপাতালে নেওয়া বা বাড়িতে সিলিন্ডার এনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কারোর সহায়তায় রোগীকে অক্সিজেন দেওয়াই ভালো। সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা