kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

ছোটভাইকে হত্যায়

শিশুর স্বীকারোক্তি : দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুন, ২০২১ ১৬:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুর স্বীকারোক্তি : দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব

বগুড়ার কাটাখালীতে ৮ বছর বয়সী ছোটভাইকে হত্যার অভিযোগে ১২ বছরের মো. সৌরভ মিয়াকে গ্রেপ্তার এবং ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলার প্রথম ও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মামলার নথিসহ (সিডি) আগামী ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্টে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা সারিয়াকান্দি থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক বর্তমানে নাটোরে সিআইডির পরিদর্শক নয়ন কুমারকে হাজির হয়ে ওই ঘটনার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আর বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়ার পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মো. মনসুর আলীকে মামলার নথি (সিডি) নিয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। নয়ন কুমার ১২ বছর বয়সী বড়ভাইকে (সৌরভ মিয়া) আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল। আর এসআই মনসুর আলী ১২ বছর বয়সী বড়ভাইকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। ওই ঘটনা নিয়ে প্রত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ৫ আইনজীবীর করা এক আবেদনের এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। শুনানিকালে সৌরভ তার পিতা-মাতাসহ ভার্চুয়ালি হাইকোর্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ওই ঘটনায় গত ১১ জুন ‘বিয়ারিং দ্য আনবিয়ারেবল’ শিরোনামে একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এই মামলায় শিশু আদালতের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের ৫ আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন করেন। 

জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট ৮ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধারের একদিন পর বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন নিহতের পিতা মহিদুল ইসলাম। স্থানীয় থানা পুলিশ ওই বছরের ২৯ নভেম্বর বাদীর ১২ বছরের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন ৩০ নভেম্বর বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় তাকে। সেখানেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।

বাবা-মা ছোট ভাইকে তার চেয়ে বেশি ভালোবাসায় তাকে খুন করেছে বলে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানায় বড় ছেলে। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে। কিন্তু সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিটি শুনানিতেই আদালতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে ওই শিশুকে। মহিতুলের অভিযোগ, ‘খুনীরা প্রভাবশালী। পুলিশ তাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বড় ছেলেকে বাধ্য করেছে।’ পরে পুলিশ বড় ভাইকে একমাত্র আসামি দেখিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। কিন্তু মহিদুল ইসলাম এতে নারাজি দিলে ২০১৭ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় আদালত। পিবিআই চারবছর ধরে তদন্ত শেষে বড় ছেলেকে নির্দোষ হিসেবে চিহ্নিত করে। এছাড়া হত্যার ঘটনায় অন্য দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।



সাতদিনের সেরা