kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

সংসদে সাধারণ আলোচনায় শেখ সেলিম

‘স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গি সংগঠন হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জুন, ২০২১ ১৯:৪০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



‘স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গি সংগঠন হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করতে হবে’

ফাইল ফটো

হেফাজতে ইসলামকে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার দাবী জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এই আলোচনায় আরো অংশ নেন সরকারি দলের বেগম মতিয়া চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম শিমুল, এম এ মতিন, আনোয়ার হোসেন হেলাল ও কাজিম উদ্দিন আহমেদ, গণফোরামের মোকাব্বির খান, বিরোধী দলের প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ ও ডা. রুস্তম আলী ফরাজী এবং বিএনপির জাহিদুর রহমান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত দেশের বিভিন্নস্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সরকার পতন। স্বাধীনতা দিবস ওরা সহ্য করতে পারে না, ওদের বুকে ব্যথা লাগে। কথা নাই বার্তা নাই বায়তুল মোকাররমে জমা হয়ে তা-ব চালায়। সেখানে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারেন না। বায়তুল মোকাররমে এ ধরণের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা উচিত। তিনি আরো বলেন, তারা বায়তুল মোকাররমকে প্লাটফর্ম বানিয়েছে। এই হেফাজতে ইসলাম ছিল স্বাধীনতাবিরোধী নেজামে ইসলামি। মানুষ মেরে এরা ইসলামকে হেফাজত করবে কিভাবে? আসলে এটা জঙ্গী সংগঠন, এ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হোক। যেভাবে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হয়েছে ঠিক সেভাবে।

আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম বলেন, আমাদের প্রধান শত্রু সাম্প্রদায়িকতা। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জিয়া-মোশতাকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। জিয়াউর রহমান এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে মুক্তি দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছেন, যার বাংলা করলে দাঁড়ায়- ‘বি’ মানে বাংলাদেশ, ‘এন’ মানে না এবং ‘পি’ মানে পাকিস্তান। অর্থাৎ বাংলাদেশ না পাকিস্তান। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ করে দিতে এই জিয়া এদেশে জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের রাজনীতিতে স্থান করে দেয়। আর স্ত্রী খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাসহ পুরো আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। এরা গণতন্ত্র, মানবতা ও জনগণের শত্রু।

সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি জারি করেছিল, আজ তারাই গণতন্ত্র ও মানবতার কথা বলে! যারা প্রতি রাতে কার্ফিউ দিয়ে কারফিউ গণতন্ত্র কায়েম করেছিল, তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে খালেদা জিয়া সরকারের সম্পূর্ণ নীলনকশাঁ ও পরিকল্পনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। আর বিনা বিচারে তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমান শত শত সামরিক অফিসারসহ মানুষকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে।

জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন- বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। সেটাই আজ প্রমাণিত হয়েছে। মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশ আজ ভারতকেও পেছনে ফেলেছে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে মহামারী করোনা মোকাবেলায় কোন দিক-নির্দেশনা নেই। ভ্যাকসিন ছাড়া এই মহামারী নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। বিপদের দিনে মানুষকে আগে বাঁচাতে হবে।

গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, দুর্নীতিবাজ কিছু প্রশাসনিক ও আমলাতন্ত্রের কারণে সরকারের অনেক অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেটকে ধ্বংস করতে না পারলে বাজেটের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত হবে না। গত প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় একটি প্রজন্মের জীবন এখন ধ্বংসের পথে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, গত ১১ বছরে বিদ্যুতের দাম ৯০ ভাগ বেড়েছে। এই সময়ে পানির দাম ১১ বার বাড়ানো হয়েছে। অনেক খাতেই এখন যেন দুর্নীতির উৎসব চলছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিংখাতে ব্যাপক লুটপাট চলছে। বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এসব পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে মানবকল্যাণে ব্যয় করার দাবি জানান তিনি।
বিএনপির জাহিদুর রহমান অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবী জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কার্যতঃ গৃহবন্দী হয়ে আছেন। তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জাতি আজ মহাদুর্যোগকাল অতিক্রম করছে। ধনী-গরীবের বৈষম্য বেড়েই চলেছে। করোনাকালে নতুন করে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে গেছে।

মগবাজারের বিস্ফোরণের ঘটনায় সংসদে বিবৃতি দাবি

মগবাজারের বিস্ফোরণের ঘটনায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের কাছে সংসদে ৩০০ বিধিতে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার দাবি উঠেছে। গতকাল সোমবার সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু এ দাবি করেন। মগবাজারের বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী মগবাজারে মনে হয় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত সাতজন মারা গেছে। আরও অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও এর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো গতরাতে যে ঘটনাটা ঘটলো এটা আসলেই কি কারণে তা জানানোর জন্য। এই ঘটনার কারণ এবং প্রতিকার বের করা দরকার। যে মানুষগুলো মারা গেল, তাদের কোনও ক্ষতিপূরণ দিতে দায়ীদের বাধ্য করা হবে কি না- এ বিষয়ে ৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি যেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেন, সেই দাবি রাখছি।

একই প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি'র সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ বলেন, গত বছর নারায়ণগঞ্জে মসজিদে নামাজ চলাকালে বিস্ফোরণে অনেক মানুষ মারা গিয়েছিল, অনেক মানুষ আহত হয়েছিল, যাদের দীর্ঘদিন চিকিৎসা দিতে হয়েছিল। গতকাল রাজধানীর মগবাজারের মতো ব্যস্ততম জায়গায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে- এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই এই বিভাগকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিতে হবে, যে ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ বিভাগের যারা লাইন নির্মাণ করেছে এইগুলোর সেফটি নিশ্চিত করতে হবে। এখানে বেআইনি যারা গ্যাস সংযোগ নিচ্ছে যারা বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ নিচ্ছে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে প্রতিনিয়ত এভাবে মানুষ মরবে।



সাতদিনের সেরা