kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

মাত্র আড়াই টাকার অনিয়ম

৩৯ বছর পর চাকরির সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জুন, ২০২১ ১৯:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩৯ বছর পর চাকরির সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল আলম

মাত্র আড়াই টাকার অনিয়মের অভিযোগে ৩৯ বছর আগে চাকরিচ্যুত মুক্তিযোদ্ধা কুষ্টিয়ার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল আলম আকনকে চাকরি সংক্রান্ত সকল সুযোগ-সুবিধা দিতে নিজেদের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এবিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে(কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর) আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী।

এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ওবায়দুল আলম আকন বলেন, জীবিত থাকাবস্থায় এ রায় আমি দেখে যেতে পারবো কীনা তা ভাবতে পারিনি। তবে আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি অভিব্যক্তি প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মো. ওবায়দুল আলম আকন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কুষ্টিয়া কার্যালয়ে পাট সম্প্রসারণ সহকারি হিসেবে দায়িত্বরত থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে একজন ক্রেতার কাছ থেকে পাঁচ প্যাকেট পাটের বীজ বাবদ আড়াই টাকা (প্রতি প্যাকেটে ৫০ পয়সা) বেশি নিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন এক ক্রেতা। এই অভিযোগে ১৯৮২ সালের ১৫ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার শেষে ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি কারাভোগ শেষে মুক্তি পান। এ অবস্থায় তিনি ২০১১ সালে চাকরি ফিরে পেতে আবেদন করেন।

কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাকরি ফিরিয়ে না দেওয়ায় তিনি চাকরিচ্যুতির আদেশের বিরুদ্ধে ও সামরিক আদালতের সাজা বাতিল চেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ রিট আবেদনে হাইকোর্ট ২০১১ সালে রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর এক রায়ে সাজা বাতিল করে তাকে সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়াসহ চাকরিতে পূণর্বহালের নির্দেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে আপিল করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আপিল বিভাগ ২০২০ সালের ৮ মার্চ এক রায়ে হাইকোর্টের রায় আংশিক সংশোধন করে দেন। রায়ে শুধুমাত্র চাকরি সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে বলা হয়। এ অবস্থায় আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদন খারিজ করে দিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।



সাতদিনের সেরা