kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

পার্থ গোপালের জামিন নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিডিও তলব

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ জুন, ২০২১ ১৪:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পার্থ গোপালের জামিন নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিডিও তলব

ফাইল ছবি

ঘুষগ্রহণ ও অর্থপাচার আইনে হওয়া মামলায় বরখাস্ত  সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিকের জামিন বাতিল চেয়ে দুদকের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে বিচারিক আদালতে জামিনের পর বেসরকারি টিভি চ্যানেল ২৪ এ প্রচারিত প্রতিবেদনের স্ক্রিপ্টসহ সিডি হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২৮ জুন) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে ১ বছর ও ৬ মাসের মধ্যে পার্থ গোপাল বণিকের মামলা নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বিশেষ জজ আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। পার্থ গোপাল বণিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী বি এম ইলিয়াস কচি ও শাহরিয়া কবির বিপ্লব।

গত ১৭ জুন পার্থ গোপালকে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত জামিন দেন আদালত। ওই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। শুনানিতে খুরশীদ আলম খান বলেন, হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চ পার্থ গোপাল বণিকের মামলা ৬ মাস ও এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছিলেন। কিন্তু জামিনের নথিতে এ রেকর্ডগুলো নেই। এরপর আদালত আদেশ দেন।

গত বছরের ৪ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর ১৫ ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একই বছরের ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ডিআইজি প্রিজনস পার্থের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে মোট ১৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পার্থ গোপালের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৮০ লাখ টাকার কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি অর্থাৎ তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ৮০ লাখ টাকা বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপার্জন করে অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে নিজ বাসায় লুকিয়ে রেখেছেন মর্মে প্রমাণিত হয়। 

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ২০১৪ সালে তিনি ৩১ হাজার ২৫০ টাকা বেতন স্কেলে কারা উপ-মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তার এই বেতন স্কেলের সঙ্গে এত টাকা অর্থ উপার্জন অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তা উত্তোলন করেননি বা তিনি কখনও এই অর্থ আয়কর বিবরণীতেও প্রদর্শন করেননি। যা দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

২০১৯ সালের ২৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ গোপাল বণিককে। ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা তার বাসায় রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পার্থ গোপাল বণিকের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়।

পরে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর পর ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পার্থ গোপাল বণিককে গ্রেপ্তারের দিন থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। 



সাতদিনের সেরা