kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ জুন, ২০২১ ০৯:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি

মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত ভবন, গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারলেস গেট এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মো. মাহফুজ রিভেঞ্জ আজ সোমবার (২৮ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা জানান, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন উপপরিচালক (ঢাকা) দিনমনি শর্মা, সহকারী পরিচালক (ঢাকা) ছালেহ উদ্দিন আহমেদ, উপ-সহকারী পরিচালক (ঢাকা জোন-০১) মো. বজলুল রশিদ ও ও্যার হাউজের পরিদর্শন মণ্ডল।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এ ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মগবাজারের ওয়্যারলেস গেট এলাকায় অবস্থিত 'রাখি নীড়' নামের একটি তিনতলা ভবন ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হন। আহত হন ওই ভবনের বাসিন্দা, সামনের রাস্তায় থাকা বাসযাত্রী, পথচারীসহ শতাধিক। এর মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

কোথা থেকে কিভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিস ও ডিএমপি কমিশনারের ধারণা, গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণ হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, কোনো ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়েছে। কেউ বলছেন, কোনো ভবনের জেনারেটর কিংবা এসি থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। 

বিস্ফোরণে রাখি নীড় ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের বেশ কয়েকটি ভবন, তিনটি যাত্রীবাহী বাসসহ বেশ কিছু যানবাহন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল ও কমিউনিটি হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যালে ৩৮ জন এবং বার্ন ইনস্টিটিউটে ১০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন দগ্ধ হয়েছে। বেশির ভাগই ভবনের বিস্ফোরিত অংশ ও কাচের আঘাতে আহত হয়েছে। সন্ধ্যায় ব্যস্ত রাস্তায় বাসে যাতায়াতের সময় বা রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আকস্মিকভাবে হতাহতের শিকার হন অনেকে। 

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মগবাজার থেকে মৌচাকের আউটার সার্কুলার রোডের ৭৯ নম্বর রাখি নীড় ভবনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ভবনটির নিচের অংশে বিস্ফোরণের পর দেবে যাওয়া জেনারেটর বা গ্যাসলাইন থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের অর্ধশতাধিক ভবনের কাচ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় বৈদ্যুতিক কোনো গোলযোগ আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা