kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

এমএসএমই দিবস ২০২১ উদযাপন

এসএমই খাতের উন্নয়নে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জুন, ২০২১ ১৬:২২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এসএমই খাতের উন্নয়নে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো এসএমই ফাউন্ডেশন এবং UNIDO’র যৌথ উদ্যোগে ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে আরো এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে জাতিসংঘ ২৭ জুনকে ‘এমএসএমই দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। সেই হিসেবে এ বছর সারা বিশ্বে পঞ্চমবারের মতো দিবসটি পালিত হচ্ছে।

আজ রবিবার এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা এবং এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন UNIDO’র Regional Representative for South Asia Mr. Van Berkel Rene।

স্বাগত বক্তৃতায় এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, এসএমই কভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে এসএমই উদ্যোক্তাদের ক্ষতি কাটিয়ে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ইতিমধ্যে এ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ১০০ কোটি টাকা বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। তিনি আরো জানান, আগামী অর্থবছরের জন্য এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের পাঁচ বছর মেয়াদি (২০২১-২৫) কৌশলগত উন্নয়ন রূপকল্প তৈরি, সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ২০০ কোটি টাকা বিতরণ, ১টি জাতীয় এবং বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ১৬টি আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা আয়োজন, নতুন উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা, দক্ষতা উন্নয়নে অন্তত পাঁচ হাজার উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, অনলাইন মার্কেটিংয়ে উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান, এসএমই উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের জন্য অনলাইন প্রোডাক্ট ডিসপ্লে প্ল্যাটফর্ম, নারী-উদ্যোক্তা ও ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্য ঠিক করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। তবে এসএমই ফাউন্ডেশন মনে করে, দেশের মোট অর্থনীতির চার ভাগের এক ভাগ এসএমই খাতের উন্নয়ন এবং এসএমই নীতিমালা ২০১৯ বাস্তবায়নে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে কার্যালয় স্থাপন, ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম, এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে প্রতিবছর বাজেটে সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন। এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনকে একটি কার্যকর ও স্মার্ট প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই হলো এম্এসএমই দিবস পালনের মূল লক্ষ্য।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি বলেন, দেশের এমএসএমই উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সারা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদন, বাজার সংযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এসব উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে দেশের উদ্যোক্তাদের পণ্য সারা বিশ্ব জয় করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, কভিড-১৯-এর মধ্যেও দেশের প্রত্যন্ত পাড়ায়, গ্রামে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করছেন। এখন দরকার তাদের দক্ষতা উন্নয়ন। এসএমই ফাউন্ডেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম দেশে দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরির প্রয়াস আরো জোরদার করবে বলেও মনে করেন তিনি। এসএমই ফাউন্ডেশনকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী  কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫%। এসএমই নীতিমালা ২০১৯-এ ২০২৪ সালের এসএমই খাতের অবদান ৩২%-এ উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশের ৭৮ লাখ ১৩ হাজারের অধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতকরা ৯৯ ভাগের বেশি কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি বা সিএমএসএমই। অর্থনীতিতে এমএসএমই খাতের অবদান আরো বৃদ্ধি করতে এবং তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এমএসএমই উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমগুলো সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নকে গতিশীল করবে বলেও মনে করেন তিনি। এ লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান শিল্প প্রতিমন্ত্রী।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের তরুণ ও যুবসমাজ এখন চাকরি খুঁজছে না, নিজেরাই চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তুলেছিলেন প্রত্যন্ত দ্বীপ জেলা ভোলা থেকে। বর্তমানে ৭০০০ ডিজিটাল সেন্টারে ১৩ হাজার উদ্যোক্তা কাজ করছে। আইসিটি খাতে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ লক্ষাধিক কর্মসংস্থান তৈরির করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। জনাব পলক, ডিজিটাল সেবা গ্রহণের মাধ্যমে আরো বেশি বেশি উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



সাতদিনের সেরা