kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

দুই বছর বাড়ানো হলো ‘লজিক’ প্রকল্পের মেয়াদ

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ জুন, ২০২১ ১৮:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই বছর বাড়ানো হলো ‘লজিক’ প্রকল্পের মেয়াদ

বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল অঞ্চলের মানুষের কাছে জলবায়ু অভিযোজনের সুফল পৌঁছে দিতে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদার সংস্থাগুলো জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগ শীর্ষক প্রকল্পের (লজিক) মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার একটি ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী  মো. তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধি দলের প্রধান রেনসে টরিঙ্ক, সুইডেন দূতাবাসের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স ও মিশন উপ-প্রধান ক্রিস্টিন জোহানসন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং জাতিসংঘের পুঁজি উন্নয়ন তহবিলের (ইউএনসিডিএফ) প্রতিনিধিবর্গ। 

খুলনা, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার ৭২টি ইউনিয়নের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে ও স্থানীয় সরকারপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জলবায়ু তহবিল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। পারফরম্যান্স বেইজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স গ্রান্ট (পিবিসিআরজি) ও কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স ফান্ড (সিআরএফ) স্কিমের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ চার লাখ মানুষকে সহয়তা করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় জলবায়ু অভিযোজনে ব্যয়কল্পে জনগণের মধ্যে জলবায়ু তহবিল পৌঁছে দেওয়ার কাজে লজিক প্রকল্পের সক্ষমতা আজ প্রমাণিত সত্য।’ বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সহয়তা প্রদানে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।

ইইউ প্রতিনিধি রেনসে টরিঙ্ক তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ জলবায়ু মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক দশকব্যাপী কর্মকান্ডের উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “ইইউ বাংলাদেশ সরকারকে এমন একটি কাঠামো তৈরিতে সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে যাতে করে জলবায়ু পরিবর্তনে ও অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পরিবারগুলোর কাছেই আর্থিক সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হয়। লজিক প্রকল্পের মধ্য দিয়ে সুইডেন, ইউএনডিপি, ইউএনসিডিএফ এর সঙ্গে যৌথভাবে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের শক্তিশালী নেতৃত্বে সেই কার্যকর কাঠামো তৈরিতে আমরা সফল হয়েছি। সম্প্রতি আরো ৭০ লাখ ইউরো সঠিক খাতে ব্যয় হয়েছে এবং বাংলাদেশের জলবায়ু অর্থায়নে নতুনত্ব এনেছে। সবচেয়ে বেশি নাজুক জনগোষ্ঠির মাঝে সহায়তা পৌঁছাতে আমরা স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন অংশিদারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করতে আগ্রহী।”

 লজিক প্রকল্পের আরেক অংশিদার, সুইডেন সরকারের বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখার সময় ক্রিস্টিন জোহানসন বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কেবল শিকারই নয়; এ দেশটি জলবায়ু পরিবর্তন আভিযোজনের বেলায় সারা দুনিয়ার সামনে উদাহরণও সৃষ্টি করেছে। লজিক তেমন একটি উদাহরণ। বাংলাদেশের জনগণের সাথে জলবায়ু সমস্যার সমাধানকল্পে এক সঙ্গে কাজ করতে পেরে সুইডেন গর্বিত।”

বাংলাদেশে ইউএনডিপি এর উপ-আবাসিক প্রতিনিধি ভ্যান এনগুয়েন তাঁর বক্তব্যে মানব জাতীর সামনে এ মুহুর্তে সবচেয়ে বড় হুমকি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় লজিক এর মত অংশিদারিত্বমূলক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “ইউএনডিপি লজিক প্রকল্প থেকে অর্জিত জ্ঞান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িযে দিতে চায়। উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে ও সরকারের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যহত রাখতে চাই যার ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের গন্ডি পেরুতে ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখানে আমাদের ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।”

 এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ও লজিক প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক শায়লা ফারজানা প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ মনুষকে সহায়তা প্রদানে স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা সবচেয়ে জরুরি। ২০২১ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও লজিক প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষের কাছে সাহায্য পোঁছে দিতে এ প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়াতে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা একমত হয়েছেন।”

ভার্চুয়াল সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ইউএনসিডিএফ এর কান্ট্রি ফোকাল পয়েন্ট, জেসমুল হাসান এবং মামুনুর রশীদ, ক্লাইমেট চেঞ্জ স্পেসিয়ালিস্ট, ইউএনডিপি।



সাতদিনের সেরা