kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

কেন চীনকে ঠেকাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র

গাজীউল হাসান খান   

২৪ জুন, ২০২১ ০৪:৪৯ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



কেন চীনকে ঠেকাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে জো বাইডেন লন্ডনে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থাৎ ‘জি-৭’-এর একটি সভার আয়োজন করিয়েছিলেন তাঁর বিশেষ প্রয়োজনে। চলতি জুনের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত নেতাদের সে সমাবেশে বাইডেনের প্রধান স্লোগান ছিল—‘আমরা আবার ফিরে এসেছি’। অর্থাৎ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হটিয়ে আমেরিকা আবার তার মূল্যবোধগত (পক্ষান্তরে জাতীয় স্বার্থগত) অবস্থানে ফিরে এসেছে। তাই আমেরিকা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র, মানবাধিকার, পরিবেশ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্নে তার পুরনো সহযোগীদের সঙ্গে আবার এক হয়ে কাজ করতে চায়। করোনা-পরবর্তী বিশ্বে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিপর্যয় ও মন্দা ঠেকাতে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাসী অর্থাৎ পুঁজির সর্বোচ্চ বিকাশে আস্থাবান শিল্পোন্নত দেশসমূহকে আগের মতো আবার ঐক্যবদ্ধ করার তাগিদ অনুভব করেছেন বাইডেন। তিনি ট্রান্স-আটলান্টিক বলয়ে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে আগের সম্পর্ক (ট্রাম্প-পূর্ববর্তী) কিংবা বাণিজ্যব্যবস্থা শিগগিরই ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। ‘আমেরিকা ফাস্ট বা নাম্বার ওয়ান’ বলে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের (যুক্তরাষ্ট্র) স্বার্থের প্রশ্নে অর্থাৎ বাণিজ্য ও করের পরিপ্রেক্ষিতে যে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছিলেন, জো বাইডেন তার অবসান ঘটিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই ট্রাম্পের বিপরীতে তিনি নতুন স্লোগান তুলেছেন ‘Build back better’, যার অর্থ দাঁড়ায় উত্তম পুনর্গঠনে ফিরে যাওয়া। নীতিগতভাবে বাইডেনের উপলব্ধি জন্মেছে যে করোনা-পরবর্তী বিশ্বে নিজেদের (যুক্তরাষ্ট্র) অবস্থান ধরে রাখতে হলে পুরনো পুঁজিবাদী জোট ও সহযোগীদের কোনো মতেই হাতছাড়া করা চলবে না। তাহলে বিশ্ববাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তারের অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসরমাণ গণচীন বিশ্বনেতৃত্ব কেড়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। এতে সামরিক শক্তির দিক থেকেও দেশটি রাশিয়াকে ছাড়াই বিশ্বব্যাপী ছড়ি ঘোরাতে সক্ষম হবে। সে অবস্থা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে বলে কূটনৈতিক মহলের বিশ্বাস।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিকদলীয় সাবেক সিনেটর ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, তাঁর সামনে সমাজতান্ত্রিক চীন এখন এক অপ্রতিরোধ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা মধ্যগগনে থাকতে থাকতেই তাঁকে চীনের অগ্রগতি রোধ করতে হবে। নতুবা যুক্তরাষ্ট্রের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দল যেকোনো পর্যায়ে বর্তমান আধিপত্য হারালে আবার যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, বর্ণবিদ্বেষী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতার আবির্ভাব ঘটবে না তা কে বলতে পারে? বিশাল যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ছড়িয়ে রয়েছে নিম্নবিত্তের সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা।’ রাজনৈতিকভাবে গণেশ ওল্টাতে তাদের অপশক্তি আরো বহুদিন এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে  তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত বর্তমান প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ভবিষ্যতে কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন; সেটা নিয়ে বৃদ্ধ বাইডেনের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বাইডেন কৌশলী রাজনীতিক। ক্যাপিটল হিলের রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন তাঁর ক্ষুরধার অসি পরিচালনা করেছেন। তাই ডেমোক্র্যাটদের শিবিরের বেশির ভাগ নেতাকর্মীই মনে করেন, বাইডেনের প্রথম টার্মের সাফল্যের ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আর্থ-রাজনৈতিক ও সামরিক সাফল্য। নতুবা অপরাজেয় চীন অপেক্ষমাণ রয়েছে বিশ্বের প্রধান পরাশক্তির সিংহদ্বারে। চীনের একদলীয় সমাজতান্ত্রিক কিংবা পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভাষায় স্বৈরতান্ত্রিক (autocratic) শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বর্তমানে দৃশ্যত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। অধিকন্তু বহির্বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশসমূহে চলছে সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অস্ত্র সরবরাহ।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কথা বাদ দিলেও বর্তমানে আফ্রিকাজুড়ে চলছে চীনের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। পাশাপাশি ইউরোপের ইতালি, গ্রিস, পর্তুগাল, স্পেনসহ বেশ কিছু দুর্বল অর্থনীতির দেশে চীন তার উন্নয়নের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের প্রস্তাবনা নিয়ে এগিয়ে গেছে। এ বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে। ট্রাম্প একলা চলার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ কিংবা ‘আমেরিকা নাম্বার ওয়ান’ স্লোগানের অন্তরালে ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) সহযোগী দেশসমূহের কাছ থেকে ক্রমে ক্রমে সব কিছু গুটিয়ে নিচ্ছিলেন, একমাত্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছাড়া। তার ওপর নাফটা ও ট্রান্স-প্যাসিফিকসহ বহুপক্ষীয় প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিগুলোও ক্ষমতায় এসেই তিনি বাতিল করে দিয়েছিলেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্রশক্তি, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের সঙ্গেও বাণিজ্য ও করের প্রশ্নে দেখা দিয়েছিল তুমুল বিতর্ক। সেই থেকে শিল্পোন্নত জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালিসহ অন্যরা চীনের সঙ্গে সন্তোষজনকভাবে বাণিজ্যের জাল ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছিল। একমাত্র ইংরেজিভাষী ও ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ যুক্তরাজ্য বা ব্রিটেন ছাড়া ট্রাম্প ওপরে উল্লিখিত বিশেষ কোনো দেশের সঙ্গেই বিশেষ কোনো সম্পর্ক রাখেননি। বরং পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে বর্ধিত পরিমাণ (বার্ষিক) অর্থ প্রদান করতে না পারলে তিনি ইউরোপের কোনো দেশেরই নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন। সেই থেকে ইউরোপের জার্মানি ও ফ্রান্স নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে তত্পর হয়ে ওঠে এবং ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক ক্রমে ক্রমে রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। সে সুযোগে চীন এখন ইরান ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য ছাড়াও উন্নত সম্পর্ক গড়ে তুলতে মাঠে নেমেছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলার পর ফিলিস্তিনে সাহায্য পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশ্ববাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে চীনকে রুখে দিতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লন্ডনে অনুষ্ঠিত জি-৭ এবং পরে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সভায় বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পরিষ্কার ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। জার্মানির বিদায়ি চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী কিংবা বৃহত্তরভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদভাবে কথা বলেছেন ম্যাখোঁ। করোনা-পূর্ববর্তী অর্থাৎ ট্রাম্পের ক্ষমতাচ্যুতির পূর্ববর্তী বিশ্বব্যাপী দুর্বল অর্থনীতি ও বাণিজ্যব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি পশ্চিমা মুক্তবাজার অর্থনীতির ধ্যান-ধারণার গলা টিপে ধরার জন্য প্রকারান্তরে যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছেন। সেই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন বিভিন্নভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের কেনিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা, ঘানা, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে রেলপথ, সড়কব্যবস্থা ও বন্দরব্যবস্থা উন্নয়নে চীনের বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে নিরলস প্রচেষ্টা উল্লিখিত অঞ্চলের বাজারব্যবস্থা, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের চিত্র দৃশ্যত বেশ কিছুটা বদলে দিয়েছে। সেসব স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কিংবা উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিমাণ কতটুকু? নেই বললেই চলে। সে অবস্থায় আফ্রিকায় ফ্রান্সের দু-একটি অতীত ঔপনিবেশিক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের দৃশ্য চোখে পড়ে। রাশিয়া ও তুরস্কেরও বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে এখন আফ্রিকার বিভিন্ন রাষ্ট্রে। এই পরিস্থিতিতে অস্বস্তিবোধ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাই তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অপেক্ষাকৃত সমৃদ্ধিশালী দেশ জার্মানি ও ফ্রান্সের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আফ্রিকা, এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের অপেক্ষাকৃতভাবে পশ্চাত্পদ দেশসমূহে বিনিয়োগ করতে, যাতে অবকাঠামোগত বিনির্মাণ, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন আসে। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে ধনিক দেশ হিসেবে এ ব্যাপারে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি। ভাবখানা এমন যেন তার পক্ষ হয়ে সবাই কাজ করবে চীনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আর তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে বিশ্বের প্রধান শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে মোড়লপনা করবেন। ন্যাটের সভায় এবং তার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন সামরিকভাবে চীনকে রুখে দাঁড়ানো এবং তাকে মোকাবেলার ব্যবস্থা নিতেও আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সামরিক ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা বা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেননি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশসমূহে অবকাঠামোগত পুনর্নির্মাণ, পুনর্বাসন ও শিল্প-কারখানায় উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘মার্শাল প্ল্যান’ নামে একটি অর্থনৈতিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। তার ফলাফল নিয়ে এখানে আলোচনা করতে চাই না। তবে করোনা-পরবর্তী বিপর্যস্ত বিশ্বে শিল্পোৎপাদন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জি-৭ থেকে যে ধরনের বাস্তবসম্মত সুপারিশমালা আশা করা গিয়েছিল, বর্তমান বিশ্বমন্দার আলোকে তার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। ঘোষণা এসেছে বিশ্বব্যাপী অপেক্ষাকৃতভাবে পশ্চাত্পদ কিংবা দরিদ্র দেশগুলোতে কিছুটা অধিক হারে করোনার টিকা বিতরণের ব্যবস্থা নিয়ে। সদ্যঃসমাপ্ত জি-৭ সম্মেলনের এটি একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক। আর বাদবাকি সবটাই চীনের অর্থনৈতিক কিংবা সামরিক অগ্রগতির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের রুখে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান। যাতে অর্থনৈতিক কিংবা সামরিক দিক থেকে চীন যেন কোনো মতেই প্রথম স্থানে পৌঁছাতে না পারে। সেটি দেখা কিংবা সেদিকে নিজেদের অর্থ-সামর্থ্য ব্যয় করে লক্ষ রাখাই যেন জি-৭ কিংবা ন্যাটো সদস্যদের একমাত্র দায়িত্ব। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের মূল অধিবেশনে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবার ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বিস্তারিতভাবে কোনো দিকনির্দেশনা দিতে আগ্রহী ছিলেন না। এ ছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারেও তিনি কোনো বাস্তবসম্মত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেননি।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন ট্রাম্প-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে আগ্রহী হলেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সোচ্চার নন। তিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে ইহুদিবাদীদের কোলে বসে পড়েছেন। দখলদারি কিংবা অবৈধভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সম্প্রসারণবাদী ইসরায়েল সরকারের বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে তাঁর কোনো জোরালো বক্তব্য নেই। ফিলিস্তিন সমস্যার দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা মুখে বললেও কার্যত তাঁর কোনো বলিষ্ঠ উদ্যোগ নেই। সে কারণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান তাঁর মুখের ওপরই বলে দিয়েছেন যে ইসরায়েল অখুশি হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েও তুরস্ককে এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান দেয়নি। তাই তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হয়েও রাশিয়া থেকে বিমানবিধ্বংসী এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিনেছে, যা তারা ফেরত দেবে না এবং দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজে লাগাবে। এ অবস্থায় জি-৭ কিংবা ন্যাটো সম্মেলন বিশ্বের বর্তমান সমস্যাসংকুল মানুষের মধ্যে কোনো স্বস্তির বাণী ছড়িয়ে দিতে পারেনি। নিজের আধিপত্য ও অবস্থান বজায় রাখার জন্য সেগুলো ছিল বাইডেনের একটি সাম্রাজ্যবাদী প্রয়াস।

লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত সাবেক মিনিস্টার
gaziulhkhangmail.com



সাতদিনের সেরা