kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

‘টিকা দিতে না পারলে সেরাম টাকা ফেরত দেবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৪ জুন, ২০২১ ০৩:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘টিকা দিতে না পারলে সেরাম টাকা ফেরত দেবে’

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট যথাসময়ে করোনার ভ্যাকসিন সরবরাহ দিতে না পারলে টাকা ফেরত দেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটা দেখভাল করছে। তারা এটা বলতে পারবে। চুক্তি অনুযায়ী কত দিন সময় নিয়েছিল, তা আমাদের দেখতে হবে। ভারতেরও টিকার প্রয়োজন আছে। সেসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। অবশ্যই এটা ঠিক, তারা ফেল করলে টাকা ফেরত দেবে।’

গতকাল বুধবার অর্থনৈতিকবিষয়ক ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী সামষ্টিক অর্থনীতি, বাজেট ঘাটতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।

বেশি দামের সার্জিক্যাল মাস্ক : সংসদীয় কমিটিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি সার্জিক্যাল মাস্ক কেনা হয়েছে ৩৫৬ টাকা দরে। এগুলো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে। ক্যাবিনেট কমিটি মনিটর করলে দুই থেকে ১০ টাকার মাস্ক কিভাবে ৩৫৬ টাকা দরে কেনা হয়—এমন প্রশ্নের জাবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে যেভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয় তেমনি তাদের ক্রয় করার সুযোগও রয়েছে। তারা নির্দিষ্ট লিমিটের মধ্যে কিনতে পারে। সেই লিমিট যখন ক্রস হবে, তখন আমাদের কমিটিতে আসবে। এর আগে মন্ত্রণালয় যথাযথ কর্তৃপক্ষ। তাদের ক্রয়ের ক্ষমতা রয়েছে।’ 

সামষ্টিক অর্থনীতির গতি ঊর্ধ্বমুখী : আগামী অর্থবছরে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতি ঊর্ধ্বমুখীই রয়েছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ নেই তা বলব না; চ্যালেঞ্জ অনেক। সেগুলোকে আমরা সব সময় সুযোগ হিসেবে চিন্তা করি। আমাদের রেভিনিউ অর্জন ছিল প্রধান সমস্যা। রেভিনিউ অর্জন এখন আমাদের ১৭ শতাংশ গ্রোথ। এক্সপোর্টেও ১৪ শতাংশ গ্রোথ আছে। রিজার্ভের পরিমাণও এ মাসেই ৪৬ বিলিয়ন ডলার হয়ে যাবে। রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ১৮ বিলিয়ন ডলার।’

কালো টাকা : আগামী অর্থবছরে বিশেষ প্রণোদনায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে জানতে আপনাদের আরো কয়েকটি দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অর্থবিল সংসদে পাস করব ২৯ তারিখে। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

বাজেট ঘাটতি সব দেশেই থাকে : ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি না জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি এ বছর পৃথিবীর সব দেশই অনুসরণ করছে। আমরা যে কাজটি গত বছর করেছিলাম, প্রথমেই প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। আমরা জনগণের কাছে টাকার জোগান দিয়েছি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়। এতে সবাই অন্তত খাবার পেয়েছে, মোটামুটিভাবে তারা তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পেরেছে। এ জন্য আমি বলি বাজেটে ঘাটতি আমাদের একার নয়, সবার। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে অনুরোধ করেছেন, যাতে বিষয়টি সাংঘর্ষিক না হয়। আমরা সেটিই অনুসরণ করেছি তা বলব না; অনেক আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়ে দেশে সেই কাজটি শুরু করেছেন। বাজেট ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৬.২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ১৮.৭২, ভারতের ১৩.০৭, জাপানের ১২.৯, চীনের ১১.৮৮, ইন্দোনেশিয়ার ৮.৯৬ ও ভিয়েতনামের ৬.২ শতাংশ। ধনী অথবা ধনী নয়, উন্নয়নশীল অথবা উন্নত দেশ—সবাই এই বাজেট ঘাটতি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে।’

রিজার্ভ চুরি : রিজার্ভ চুরির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চুরি হওয়া টাকার বিষয়ে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় গেছি। যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বা আমাদের চিন্তায় যারা ছিল, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। তা এখনো চলমান।’



সাতদিনের সেরা