kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

ব্র্যাকের জরিপ

করোনাকালে নারীরা বিষণ্নতায় ভুগছে বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুন, ২০২১ ০৩:৫২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাকালে নারীরা বিষণ্নতায় ভুগছে বেশি

করোনা মহামারি সবার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। তরুণ-তরুণীরা জীবন-জীবিকাসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকায় তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। আর করোনাকালে পুরুষের চেয়ে নারীরা মানসিকভাবে বেশি ভেঙে পড়েছে। ২০ শতাংশ নারী বিষণ্নতায় ভুগছে। পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ১২ শতাংশ।

করোনা সংক্রমণ রোধে দেশে গত বছর লকডাউন শুরু হওয়ার সময় থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত করা ব্র্যাক পরিচালিত এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) দেশে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে। গতকাল মঙ্গলবার এক অনলাইন সেমিনারে এই জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়।

জরিপে দেখা গেছে, মহামারির আগে চাকরিতে নিযুক্ত থাকলেও তরুণ-তরুণীদের ১৫ শতাংশ করোনা মহামারিতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ১০ শতাংশই শহরে কাজ হারিয়েছে। কৃষিকাজ, দিনমজুর কিংবা পরিবহন শ্রমিকদের মতো তুলনামূলক কম দক্ষ কর্মীদের চেয়ে দক্ষতানির্ভর পেশা যেমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা খাত, হস্তশিল্প ইত্যাদিতে জড়িতরা বেশি সময় ধরে বেকার থাকছে। যারা পুনরায় চাকরি জোগাড় করতে পেরেছে, তাদের গড় আয় কভিড-পূর্ব অবস্থার তুলনায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। শহরাঞ্চলে তরুণদের ১৫ শতাংশ আয় কমে গেছে। আর গ্রামাঞ্চলে তরুণদের আয় কমেছে ৯ শতাংশ পর্যন্ত।

করোনা মহামারিতে নারীদের অবস্থা আরো খারাপ। কর্মরত তরুণীদের এক-তৃতীয়াংশ ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চাকরি হারিয়েছে। চাকরি হারানোর এই হার তরুণদের তিন গুণ। অন্যদিকে মহামারির আগে ও পরে চাকরিতে যোগদান করা নারীদের আয় কমে যাওয়ার হার পুরুষের দ্বিগুণ। অর্থাৎ তরুণদের আয় ১০ শতাংশ কমলেও তরুণীদের ক্ষেত্রে তা কমেছে ২১ শতাংশ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তরুণ-তরুণীদের ওপর। প্রাইভেট শিক্ষক ৪৮ শতাংশ এবং স্কুল শিক্ষক ৩৭ শতাংশ কর্মহীন রয়েছে। শিক্ষকতা পেশায় যুক্তদের বড় অংশই তরুণী। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৫ শতাংশ তরুণ-তরুণী মহামারির এই সময়ে নতুন প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, মহামারিতে মানবসম্পদ তৈরির জায়গায় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এবং শিক্ষার বিকল্প উপায় না থাকাটা দেশের অর্থনীতিতে ও তারুণ্যের আর্থিক সচ্ছলতায় দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



সাতদিনের সেরা