kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

হাইব্রিড নেতাদের মূলোৎপাটন কঠিন কাজ

মির্জা আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ), আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জুন, ২০২১ ০২:৫৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হাইব্রিড নেতাদের মূলোৎপাটন কঠিন কাজ

জেলা পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু করে এখন জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে রাজপথে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। ছিলেন বিগত সরকারের পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়া ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

সাংগঠনিক কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বেশি এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। কিছু কাজ শুরু করেছিলাম; কিন্তু সেগুলোও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর পরও যতটুকু পারা যায়, চেষ্টা করে যাচ্ছি। আজও (রবিবার) ঢাকা জেলার নেতাদের নিয়ে বসেছিলাম। সেখানকার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জুলাই, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ঢাকা জেলার সব থানার সম্মেলন শেষ করা হবে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে আমরা ঢাকা জেলার সম্মেলন করব।’

দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়া জেলাগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে মির্জা আজম বলেন, ‘আগামী ২৭ জুন আমরা কিশোরগঞ্জে বর্ধিত সভার আয়োজন করতে যাচ্ছি। কিশোরগঞ্জ হলো সারা দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে পুরনো জেলা কমিটি। এখানকার সবচেয়ে নতুন থানা কমিটির বয়সও ১৯ বছর। সেখানে ২৭ বছরের পুরনো থানা কমিটি এখনো বহাল আছে। ঢাকা বিভাগে ১৭টি সাংগঠনিক জেলা। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জেই সবচেয়ে পুরনো কমিটি রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ১৫ জুলাই রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা আর ২৯ জুলাই সম্মেলনের দিন ঠিক করা হয়েছে। আরো কিছু জেলায় বর্ধিত সভা ও সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের জন্য কাজ করা হচ্ছে।’

তৃণমূলে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মির্জা আজম বলেন, ‘দলীয় কোন্দলকে আমরা খুব বড় করে দেখছি না। আওয়ামী লীগ একটি পুরনো দল। এখানে নেতা ও কর্মীর সংখ্যা বেশি। ফলে কিছু কোন্দল থাকতেই পারে। সমাধানের জন্য বসলেই কোন্দল মেটানো যায়। এগুলোকে সাংগঠনিক কাজের জন্য বাধা হিসেবে মনে করি না। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার কারণে সাংগঠনিক কাজে অনেকের আগ্রহ কমে গেছে। ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়ে বেশি মনোযোগী। এটাই হলো বড় বাধা। এ কারণে আগামীতে আমাদের যে নতুন কমিটিগুলো আসবে, সেখানে সংগঠনের প্রতি যাদের আগ্রহ আছে, সংগঠনের প্রতি যাদের মহব্বত আছে ও সংগঠনের প্রতি যাদের টান আছে, তাদেরই মূল নেতা বানাব।’

দলে অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গে মির্জা আজম বলেন, ‘কিছু অনুপ্রবেশকারী দলে ঢুকে গেছে। এরাও সাংগঠনিক কাজের জন্য বাধা। আমরা যেখানেই নতুন কমিটি করতে যাচ্ছি, সেখানেই অনুপ্রবেশকারী বা হাইব্রিডদের মূল উৎপাটনের চেষ্টা করছি। মূল কোনো পদে তাদের রাখছি না। একেবারে পেছনের পদে রাখছি বা পারলে বাদ দিচ্ছি। তবে এটা বেশ কঠিন কাজ, বড় চ্যালেঞ্জ। চাইলেও অনেক সময় এদের বাদ দেওয়া যায় না। এরা এখন অনেক পাওয়ারফুল হয়ে গেছে, অনেকে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে। এদের বাদ দিতে গেলে আমাদের দলের অনেক নেতাই আবদার করে বলেন, ওদের বাদ দিলে দলের ক্ষতি হয়ে যাবে। কিন্তু এদের ঝেড়ে ফেলার জন্য নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশ আছে।’

ঢাকা মহানগরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়া প্রসঙ্গে মির্জা আজম বলেন, ‘দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কোনো চর্চা না থাকায় ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের জড়তা চলে এসেছে। আমরা চেষ্টা করছি ঢাকায় সংগঠনকে সচল করতে। ঢাকা মহানগর উত্তর মোটামুটি সচল হয়েছে। তারা কাজ করছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কিছুটা পিছিয়ে আছে। সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে আমরা চেষ্টা করছি।’

সংগঠনের কাজে নেতাকর্মীদের অনীহা বা ঢিলেঢালা ভাব প্রসঙ্গে মির্জা আজম বলেন, ‘বিগত ১২ বছরে দেশের মানুষের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। যে মানুষটা আগে ছনের ঘরে বাস করত, সে এখন পাকা ঘরে থাকে। স্বাভাবিকভাবে যাঁরা আওয়ামী লীগের নেতা আছেন ও নেতাগিরি করেন, তাঁদেরও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। ফলে এঁদের অনেকের মধ্যেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে একটু অনীহা বা ধীরগতি চলে এসেছে। দলে পদ একটা পেয়ে গেলে সেটার তিন বছরের মেয়াদ কিভাবে ৯ বছরে টেনে নেওয়া যায়, সেই ধরনের একটা প্রবণতা চলে এসেছে। সবাই ক্ষমতা ধরে রাখতে চান, চেয়ার ছাড়তে চান না। কিন্তু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ কম, নিজের ব্যক্তিগত লাভের দিকে বেশি ঝোঁক।’

বিএনপির আসন্ন জাতীয় সংসদের তিন উপনির্বাচন বর্জনের প্রসঙ্গে মির্জা আজম বলেন, ‘বিএনপির অবস্থা খুবই খারাপ। কোনো দলের মধ্যেই এখন আর তারা পড়ে না। তারা এখন আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাবে। তারা নির্বাচনে অংশ নিলেও তো জয়ের জন্য লড়ে না। তারা অংশ নেয় নির্বাচন কিভাবে বিতর্কিত করা যায়, সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে।’



সাতদিনের সেরা