kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

বগুড়ার কাটাখালীর ঘটনায় হাইকোর্ট

ছোটভাই হত্যায় ১২ বছরের ভাইকে গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি আদায় দুঃখজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ২০:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছোটভাই হত্যায় ১২ বছরের ভাইকে গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি আদায় দুঃখজনক

প্রায় ছয় বছর আগে বগুড়ার কাটাখালীর মহিদুল ইসলামের ৮ বছরের ছেলেকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তারই ১২ বছরের আরেক ছেলেকে পুলিশের গ্রেপ্তার এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণের ঘটনাকে দেশের জন্য দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ছোট ভাইকে হত্যার মামলায় ১২ বছরের বড়ভাইয়ের কাছ থেকে যদি জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়, তবে সেটা আমাদের দেশের জন্য দুঃখজনক।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ মন্তব্য করেছেন। ওই ঘটনা নিয়ে প্রত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ৫ আইনজীবীর করা এক আবেদনের শুনানিকালে এ মন্তব্য করেন আদালত। আগামী ২৯ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

ওই ঘটনায় গত ১১ জুন ‘বিয়ারিং দ্য আনবিয়ারেবল’ শিরোনামে একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এই মামলায় শিশু আদালতের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের ৫ আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকটে মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

শুনানিতে শিশির মনির বলেন, একজন পিতা তার এক শিশু সন্তানকে হারালেন। ওই সন্তান হত্যার অভিযোগে বড় ছেলে যার বয়স ১২ বছর, তাকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। ১২ বছরের শিশুকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি নেওয়া হলো। বাড়িঘরও ছাড়তে হয়েছে সন্তানের বাবা-মাকে। ঘটনাটি শিশু আদালতের সামনে আসলো। অথচ আইন থাকা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নাই। এই কারণে আপনাদের কাছে এসেছি। যাতে ঘটনার সঠিক তদন্ত হয়ে সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হয়।

এসময় আদালত বলেন, এটা তো দুঃখজনক। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে এবং এটি যদি সত্য হয়, তাহলে সেটি আমাদের দেশের জন্য দুঃখজনক। আমরা এখনও জানি না কি ঘটেছে। রাষ্ট্রপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেন আদালত।

২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট ৮ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধারের একদিন পর বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন নিহতের পিতা মহিদুল ইসলাম। স্থানীয় থানা পুলিশ ওই বছরের ২৯ নভেম্বর বাদীর ১২ বছরের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন ৩০ নভেম্বর বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় তাকে। সেখানেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। বাবা-মা ছোট ভাইকে তার চেয়ে বেশি ভালোবাসায় তাকে খুন করেছে বলে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানায় বড় ছেলে। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে। কিন্তু সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিটি শুনানিতেই আদালতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে ওই শিশুকে। মহিতুলের অভিযোগ, ‘খুনীরা প্রভাবশালী। পুলিশ তাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বড় ছেলেকে বাধ্য করেছে।’

পরে পুলিশ বড় ভাইকে একমাত্র আসামি দেখিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। কিন্তু মহিদুল ইসলাম এতে নারাজি দিলে ২০১৭ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় আদালত। পিবিআই চারবছর ধরে তদন্ত শেষে বড় ছেলেকে নির্দোষ হিসেবে চিহ্নিত করে। এছাড়া হত্যার ঘটনায় অন্য দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।



সাতদিনের সেরা