kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ডা. তৌফিকের মৃত্যু

তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০৩:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে মামলা

ডা. তৌফিক এনাম

চিকিৎসায় অবহেলায় এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. তৌফিক এনামের মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করে অন্য হাসপাতালের তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে ডা. তৌফিকের বাবা ফিজিওথেরাপিস্ট মো. আখতারুজ্জামান মিয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন। পরে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর শুনানি শেষে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।

মামলায় কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ল্যাপারোস্কপিক সার্জন প্রফেসর ডা. আবদুল ওহাব খান, ল্যাবএইড হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ও বিআরবি হাসপাতালের হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলীকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও ল্যাবএইড হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে অন্য জায়গায় অপারেশনের পর ভেতরে জটিল অবস্থা নিয়ে পূর্বপরিচিত হিসেবে ডা. তৌফিক আমার কাছে আসেন। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমি যখন ইআরসিপি করেছি তখন তৌফিকের চিকিৎসক স্ত্রী অপারেশন কক্ষে ছিলেন এবং পুরো বিষয়টি দেখেছেন। চিকিৎসায় আমার জায়গা থেকে কোনোই ত্রুটি ছিল না।’ 

মামলার অভিযোগের বিষয়ে অন্য দুই চিকিৎসকের বক্তব্য কালের কণ্ঠ নিতে পারেনি। গত ৩০ মে বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডা. তৌফিকের মৃত্যু হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ডা. তৌফিক এনাম অসুস্থ হলে গত ৪ মে কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. আব্দুল ওহাব খানকে দেখান। তাঁর অধীনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গলব্লাডারে পাথর ধরা পড়ার কথা জানানো হয়। ৫ মে ডা. ওহাব অস্ত্রোপচার করেন। পরদিন ডা. তৌফিককে ছাড়পত্র দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ৯ মে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে ডা. ওহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জরুরি ভিত্তিতে ল্যাবএইড হাসপাতালে ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

আর্জিতে বলা হয়, ডা. স্বপ্নীল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁদের বলেন, গলব্লাডার অপারেশনের সময় ‘ভুল জায়গায় ক্লিপ’ লাগানো হয়েছে। এরপর ডা. স্বপ্নীল ‘ইআরসিপি উইথ স্টেন্টিং’ করেন। কিন্তু পরে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে ডা. স্বপ্নীলকে বারবার ডেকেও পাওয়া যায়নি। তিনি আসতেছি, দেখতেছি ইত্যাদি বলে সময়ক্ষেপণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি জরুরি ভিত্তিতে বিআরবি হাসপাতালের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর কাছে পাঠান। এরপর ডা. মোহাম্মদ আলী গত ১২ মে রোগীকে বিআরবি হাসপাতাল ভর্তি করান এবং জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করার কথা বলেন।

মামলায় বলা হয়, গত ২৭ মে অপারেশনের জন্য প্রথমে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আসামি ডা. ওহাব অপারেশনের নামে অর্থের জন্য কালক্ষেপণ করে ৩০ মে অপারেশনের জন্য তারিখ করেন। তখন বাদী ও সাক্ষীদের সন্দেহ হলে রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য ডা. মোহাম্মদ আলীকে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি পাত্তা দেননি। জোরপূর্বক টাকা আদায়ের জন্য হাসপাতালে রেখে দেন এবং ৩০ মে অস্ত্রোপচার করেন। কিন্তু রোগী মারা যাওয়ার পরও আসামি ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, রোগী ভালো আছে। ভালো হয়ে যাবে। এভাবে টাকা আদায় করেন।

আরজিতে উল্লেখ করা হয়, “ডা. তৌফিক এনাম বারবার বলছিলেন, ‘ভুল চিকিৎসা হচ্ছে, আমাকে এখান থেকে পিজি (বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল) হাসপাতালে নিয়ে যাও।’ কিন্তু ৩ নম্বর আসামি ড. মোহাম্মদ আাালী রোগীর মা-বাবা কাউকে কোনো পাত্তা দেননি। তাঁরা জোর করে অপারেশন করার পর রোগী মারা যায়। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা ক্ষমা চান।”

আরজিতে আরো বলা হয়, ‘অভিযুক্তরা অর্থলোভী। তাঁরা মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না করে হাসপাতালে সন্ত্রাসী-মাস্তান রেখে জোর করে টাকা আদায় করেন।’ শেষ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে বাদী তাঁর ছেলের মরদেহ হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ জুন কলাবাগান থানায় মামলা করতে গেলে মামলাটি গ্রহণ না করে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪(ক), ৩৮৬, ৪০৬, ৪২০ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও আবেদন করেন বাদী। তাঁর আরজিতে মোট আটজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা