kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

টিকার ট্রায়াল নিয়ে আবারও ধোঁয়াশা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০২:৪৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টিকার ট্রায়াল নিয়ে আবারও ধোঁয়াশা

মাত্র তিন দিন আগেই দেশে একসঙ্গে তিনটি টিকার মানবশরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্তের খবর বিএমআরসির বরাতে প্রকাশ হয়েছিল। যেখানে গতকাল রবিবার ওই তিন প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ারও কথা ছিল। যা নিয়ে মানুষের মধ্যেও এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয় এবং বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এর পরদিন থেকেই ওই ‘নীতিগত অনুমোদন’ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে গত বুধবার বিএমআরসির সভায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক ছাড়া অন্য কোনো টিকার ট্রায়ালের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়। ভারতের ভারত বায়োটেক বা চীনের আইবিএম ক্যামসের ট্রায়ালের বিষয়টি অনেক দিন ধরে ঝুলে থাকলেও ওই সভায় তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। যদিও বিএমআরসির পক্ষ থেকে ওই দিন গণমাধ্যমকে ওই তিনটি টিকার ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদনের কথা নিশ্চিতও করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে আবারও বিষয়টি স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে চীনের টিকার ট্রায়াল নিয়ে। গণমাধ্যমের খবর দেখে সংশ্লিষ্টরা বিএমআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের জানানো হয় চীনের টিকার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আবারও বিভ্রান্তিতে পড়েছে চীনের ওই টিকা কর্তৃপক্ষ।

সূত্রে জানা যায়, এর আগে চীনের সিনোভ্যাক টিকার ট্রায়ালের আবেদন করেও শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে দেরি করা এবং পরে দরদামে বনিবনা না হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। এর পরই চীনের আইবিএম ক্যামসের উদ্ভাবিত টিকা বাংলাদেশে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের আবেদন করে আইসিডিডিআরবি। তাদের সঙ্গে প্রায় ৬০ কোটি টাকার চুক্তিও হয়। যার ২৫ শতাংশ টাকা চীনের ওই প্রতিষ্ঠানটি আইসিডিডিআরবিকে পাঠিয়েও দিয়েছে ট্রায়ালের জন্য। সব সেটআপও রেডি। কিন্তু প্রায় ছয় মাস ধরে বিষয়টি ঝুলে আছে, পড়ে আছে টাকাগুলো। সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় চীনের কাছে আবারও সম্পর্কজনিত ঝুঁকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিডিডিআরবির একাধিক সূত্র জানায়, বারবার টিকার ট্রায়াল নিয়ে তারা এক ধরনের হেনস্তার শিকার হচ্ছে। এর আগে একাধারে তিনটি টিকার ট্রায়াল করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েও অনুমোদনজনিত সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেগুলো ভেস্তে যায়। এখন আইবিএম ক্যামসের পরিণতিও শেষ পর্যন্ত একই রকম হয় কি না, সেটা নিয়েও উদ্বিগ্ন তারা।

আইসিডিডিআরবির একজন বিজ্ঞানী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘বিএমআরসি টিকার ট্রায়াল নিয়ে রীতিমতো তামাশা করছে। এর দায় অযথাই সরকারের ওপর বর্তাচ্ছে। মানুষ মনে করছে, সরকারের গ্রিন সিগন্যাল না থাকায়ই হয়তো একের পর এক ট্রায়াল ভেস্তে যায়, যা দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। দেশে কোনো টিকার ট্রায়াল হওয়া মানে গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়া। এ ছাড়া চীন ও ভারত যেহেতু আমাদের দেশকে এ পর্যন্ত অনেক টিকা উপহার দিয়েছে, ফলে তাদের টিকার ট্রায়ালের অনুমতি ঝুলিয়ে রাখা কোনোমতেই ঠিক হচ্ছে না। আবার এই টিকাগুলো কখনো দেশের মানুষকে প্রয়োগ করার প্রয়োজন হলে ট্রায়াল না করে সেটা করাও ঠিক হবে না।’

যদিও এ নিয়ে আইসিডিডিআরবি অফিশিয়ালি কোনো বক্তব্য দিতে বা কিছু জানাতে রাজি হয়নি।

তবে এই বিষয়ে বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সেদিন সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো কোনো মিডিয়া ভুল নিউজ করেছে। ওই সভায় কোনো নীতিগত অনুমোদন বা অনুমোদন হয়নি। আমরা বলেছি, প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা কাজ করছি। যখন যেটা অগ্রগতি হবে এবং উপযুক্ত সময় হবে, তখনই আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে জানাব।’

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, আজ দেশে প্রথম ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে শুধু রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে। যাঁরা আগে নিবন্ধন করেও প্রথম ডোজ টিকা পাননি তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন। ১২০ জন করে টিকা দেওয়া হবে আজ এই তিন সেন্টারে। এরপর এক সপ্তাহ তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। সেই ফলাফল দেখে পরবর্তী সময়ে অন্যদের দেওয়া হবে। যাঁরা আগে এসএমএস পেয়েও টিকা দিতে পারেননি, তাঁদের অগ্রাধিকার থাকবে বেশি। তাঁদেরকেও আবার এসএমএস পাঠানো হবে।

অন্যদিকে শনিবার থেকে শুরু হওয়া সিনোফার্মের টিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুযোগ পাচ্ছেন বিদেশগামী কর্মী, যাঁদের বিএমইটি কার্ড আছে কিংবা নিবন্ধন করা আছে তাঁরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক নাজমুল ইসলাম জানান, শিগগির বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ইউজিসি থেকে তালিকা আনা হয়েছে। এখন সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে। চলতি টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় সিনোভ্যাকের টিকা থেকেই যতটা পারা যায় শিক্ষার্থীদের টিকা শুরু হবে।

তিনি বলেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদেরও টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হলে শিক্ষার্থীদের টিকা না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে সংক্রমণ আরো ছড়ানোর ঝুঁকি থাকবে।

এদিকে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে আগেই আলোচনা হয়েছে। আশা করা যায়, জুলাইতে চীনের সিনোফার্ম থেকে চুক্তির আওতায় টিকা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া অক্টোবরে ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা মিলবে। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা এগিয়ে চলছে।



সাতদিনের সেরা