kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

‘সরকারিভাবে টিকা উৎপাদনের প্রচেষ্টা চলছে’

উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত করার সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০২১ ১৯:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সরকারিভাবে টিকা উৎপাদনের প্রচেষ্টা চলছে’

ফাইল ফটো

সরকারিভাবে টিকা উৎপাদনের প্রচেষ্টা চলছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগসের বিদ্যমান কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন করলে এবং নতুন কিছু যন্ত্রপাতি কিনলে টিকা উৎপাদন সম্ভব হবে। সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কমিটির পক্ষ থেকে দেশের সকল জনগণকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক, ডা. আ ফ ম রুহুল হক, ডা. মো. আব্দুল আজিজ, সৈয়দা জাকিয়া নুর, রাহগির আলমাহি এরশাদ (সাদ এরশাদ) ও মো. আমিরুল আলম মিলন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের গবেষক সানজান কে দাস স্বাস্থ্য সচিবের কাছে সরকারি পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে অবকাঠামো তৈরি করতে একটি প্রস্তাব পাঠান। সানজান দাসের টিকা তৈরির প্রযুক্তির আরএনডি ও প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগসের বিদ্যমান কিছু অবকাঠামোর উন্নয়ন ও নতুন কিছু যন্ত্রপাতি কিনলে এই টিকা উৎপাদন সম্ভব হবে। বিষয়টির কারিগরি দিক পর্যালোচনার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিটির আগের বৈঠকে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির জন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করার সুপারিশের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইনসেপটা, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ও হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের টিকা তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এরমধ্যে ইনসেপটার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন রেডি টু ফিল ও মাস্টার সিড উভয় প্রক্রিয়ার সক্ষমতা রয়েছে। পপুলারের মাস্টার সিড হতে উৎপাদনের সক্ষমতা নেই। হেলথ কেয়ার অনুমোদন পেলেও উৎপাদনে যায়নি।

বৈঠকে তথ্য বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য প্রদান ও পর্যালোচনা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রদানের লক্ষ্যে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতার অনুরোধ করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়। এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা’ এখনও না পৌঁছানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে সহজতর প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে তাদের পরিবারের নিকট প্রণোদনার অর্থ পৌঁছানোর সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, অনেকে অভিযোগ করেছেন, তারা প্রণোদনা পাননি। অনেক ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই প্রণোদনা যাতে সংশ্লিষ্টদের পরিবারের কাছে দ্রুত পৌঁছায়, সেবিষয়ে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সংসদীয় কমিটির বৈঠকে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। কমিটির একাধিক সদস্য জানান, বৈঠকে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা ছিল। কিন্তু ডিজি বৈঠকে আসেননি। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ডিজি না আসায় সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কমিটির সভাপতি এ নিয়ে ডিজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা