kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

ঢাকায় ৬৮% ডেল্টা ধরন

► ঢাকার কাছে টাঙ্গাইলে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার গাজীপুরেও বেশি ► শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬৩, শনাক্ত ৩৮৪০ বেশি মৃত্যু খুলনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুন, ২০২১ ০২:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকায় ৬৮% ডেল্টা ধরন

দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা উঠেছে ৬৩-তে। শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৮৪০ জন। দৈনিক শনাক্তের হার উঠেছে ১৫.৪৪ শতাংশে। সারা দেশের হিসাবের এই তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

শনাক্ত ও মৃত্যুহার প্রায় এক মাস ধরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতেই তুলনামূলক বেশি। ঢাকায় অনেকটাই স্বস্তি ছিল শনাক্ত ও মৃত্যু কম থাকায়। তবে সেই স্বস্তি এখন আর থাকছে না। কারণ দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকায় ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে দৈনিক শনাক্তের হার। হাসপাতালগুলোতেও ধীরে ধীরে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা, যা নিয়ে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এদিকে আইসিডিডিআরবি জানিয়েছে, তারা মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ঢাকার ৬০ জন করোনা রোগীর নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে ৬৮ শতাংশের মধ্যে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট পেয়েছে। 

গত দুই সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় দৈনিক শনাক্ত ৫ থেকে ৬ শতাংশে ছিল। সেটা এখন উঠে এসেছে প্রায় ৯ শতাংশে। আবার হাসপাতালে রোগীর হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতালের করোনা ইউনিটের জেনারেল বেডে রোগী ১৮ থেকে ২৩ শতাংশে উঠেছে। আইসিইউ বেডের রোগী ২১ থেকে ৩১ শতাংশে উঠেছে।

ঢাকার কাছাকাছি জেলাগুলোতেও শনাক্ত আগের তুলনায় বেড়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুসারে দৈনিক হিসাবে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার ছিল টাঙ্গাইলে ৩৬ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকাবাসীরও এখন স্বস্তির সুযোগ নেই। বরং আবার উদ্বেগ বাড়ছে। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্ত এবং হাসপাতালের রোগীও ধীরে ধীরে  বেড়েই চলছে। ফলে সবাইকেই সাবধান হওয়া দরকার। স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক পরা জরুরি।

এদিকে আগের দুই দফায় ঢাকায় উচ্চহারের সংক্রমণকালেও তুলনামূলক নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে শনাক্ত কম দেখা গেছে বলে দৃশ্যত মনে হয়েছে। তবে এবার ঢাকার বাইরে গ্রাম পর্যায়েও কঠোর পরিশ্রমী মানুষের মধ্যে করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় সামনে ঢাকায়ও সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। সেটা হলে পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরো খারাপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, ঢাকায় শনাক্তের হার বেড়ে গেছে। আগামী সপ্তাহে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সবাইকেই সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এবার গ্রামের মানুষের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা গেছে। এই ভাইরসে ধনী-গরিব বলে কোনো কথা নেই। সব জনগোষ্ঠীর, সব বয়সের মানুষের মধ্যেই সংক্রমিত হতে পারে অসাবধানতার সুযোগে। এ ক্ষেত্রে যত বেশি পরীক্ষা হবে ততই শনাক্ত বাড়বে। ফলে সবাইকে পরীক্ষা করা জরুরি। এই বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, অনেকের ধারণা, নিম্ন আয়ের পরিশ্রমী মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণ কম হয়। কিন্তু এখন কিন্তু সব জায়গায়ই সমানভাবে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ১ জুনের তথ্য অনুসারে ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মোট পাঁচ হাজার ১৩৭টি বেডের মধ্যে রোগী ছিল ৯৩৯ জন (১৮ শতাংশ) এবং খালি বেড ছিল চার হাজার ১৯৮টি। গতকাল সেখানে ভর্তি ছিল এক হাজার ১৯৮ জন (২৩ শতাংশ) রোগী এবং খালি বেডের সংখ্যা কমে নেমেছে তিন হাজার ৯৩৯টিতে। ১ জুন ৮৩০টি আইসিইউ বেডের মধ্যে রোগী ছিল ১৭৩ জন বা ২১ শতাংশ, আর গতকাল রোগী ছিল ২৬৪ জন বা ৩১ শতাংশ বেডে।

গতকালের বিভাগওয়ারি হিসাব অনুসারে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার সর্বোচ্চ ৩৬.৮১ শতাংশ ছিল খুলনায়। এরপর চট্টগ্রামে ১৫.৮৭ শতাংশ, সিলেটে ১৫.৮৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৫ শতাংশ, বরিশালে ১৪.৭০ শতাংশ, ময়মনসিংহে ১২.২৭ শতাংশ ও ঢাকা বিভাগে ১০.৫৭ শতাংশ। তবে এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে আছে ৯ শতাংশ। টাঙ্গাইলে ৩৬.১০ শতাংশ ও গাজীপুরে ২৫.৬৬ শতাংশ।

গতকাল মারা যাওয়া ৬৩ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০ জনের মৃত্যু ঘটেছে খুলনায়। ১৩ জন মারা গেছে রাজশাহীতে, ১১ জন চট্টগ্রামে, ১০ জন ঢাকায়, তিনজন বরিশালে, দুজন করে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে। মৃতদের মধ্যে ৪৫ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী। যাদের মধ্যে ১১-২০ বছরের দুজন, ২১-৩০ বছরের একজন, ৩১-৪০ বছরের সাতজন, ৪১-৫০ বছরের সাতজন, ৫১-৬০ বছরের ১৫ জন ও ষাটোর্ধ্ব ৩১ জন।



সাতদিনের সেরা