kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

স্বেচ্ছায় রাস্তার জন্য জায়গা দান

এলাকাবাসীকে সংবর্ধনা মেয়রের, বিরূপ মন্তব্য প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুন, ২০২১ ০০:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এলাকাবাসীকে সংবর্ধনা মেয়রের, বিরূপ মন্তব্য প্রতিমন্ত্রীর

সরু রাস্তাগুলো দিয়ে ঠিকমতো হাঁটাচলা করা যায় না। দ্রুত পার হতে পারে না অ্যাম্বুল্যান্স। যখন রাস্তার এই হাল তখন এলাকাবাসীই নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে এগিয়ে এলো রাস্তাগুলো প্রশস্ত করতে। রাজধানীজুড়ে যখন শুধু দখলের খবর, সেখানে কোনো রকম ক্ষতিপূরণ ছাড়াই মিরপুরের কাফরুল এলাকার বাসিন্দারা রাস্তা প্রশস্ত করতে স্বেচ্ছায় জমি দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি)।

মিরপুরের কাফরুল, ইব্রাহিমপুরের ২৭টি রাস্তা মাত্র ছয় ফুট চওড়া। এখন এই রাস্তাগুলো বড় করতে স্থানীয় লোকজন নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। তাদের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজন করে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। সকালে কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুরে অ্যাডভেন্টিস্ট ইন্টারন্যাশনাল মিশন স্কুলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কামাল আহমেদ মজুমদার দাবি করেন, সন্ত্রাসী ব্যবহার করে রাস্তা খালি করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদে উত্তেজিত হয়ে ওঠে স্থানীয় লোকজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঞ্চে উঠে আসেন ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। পরে অনুষ্ঠান ছেড়ে যেতে বাধ্য হন শিল্প প্রতিমন্ত্রী। 

এই ঘটনাকে অপ্রীতিকর এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো সন্ত্রাসের মাধ্যমে জায়গা খালি করা হয়নি। ঢাকা শহরে রাস্তা ও ফুটপাত দখলকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নিজেরা সরে না গেলে তাদের উচ্ছেদ করবে সিটি করপোরেশন। ঢাকাকে দখল, দূষণ ও দুষ্ট লোকের কবল থেকে মুক্ত করে সবার বাসযোগ্য একটি আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা হবে।’

মেয়র আরো বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর অঞ্চলের ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। এসব ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট এতটাই অপ্রশস্ত যে বিপদের সময়ে জরুরি অ্যাম্বুল্যান্সও প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি এই এলাকার বাড়িঘর থেকে মৃতদেহ বাইরে বের করাও কঠিন হয়ে ওঠে। প্রশস্ত রাস্তার গুরুত্ব অনুধাবন করেই এই এলাকার সাধারণ মানুষ একত্র হয়ে আজ এগিয়ে এসেছে এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এলাকার অপ্রশস্ত রাস্তাগুলো প্রশস্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই কাজ করতে গিয়ে উত্তর সিটি করপোরেশন তথা সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। 

মেয়র বলেন, এসব রাস্তা প্রশস্ত করতে গেলে জমি অধিগ্রহণ করতে হতো, অনেক টাকাও খরচ করতে হতো। কিন্তু সাধারণ জনগণের অসাধারণ ক্ষমতাবলে সেই কাজ অতি সহজেই সম্ভব হয়েছে। তিনি এলাকাবাসীকে এই কাজের জন্য ধন্যবাদ দেন এবং দ্রুত এসব রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, মাটি ও মানুষ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, এই সম্পদ কাজে লাগিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আলোচনাসভা শেষে মেয়র ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজাসহ স্থানীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে প্রশস্ত করা বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দেখেন।



সাতদিনের সেরা