kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

বঙ্গভ্যাক্সসহ তিন টিকার ট্রায়ালে নীতিগত সিদ্ধান্ত

► বিএমআরসির সভায় সিদ্ধান্ত, আনুষ্ঠানিক চিঠি যাবে রবিবার
► গ্লোব বায়োটেক ছাড়া অন্য দুই কম্পানি হচ্ছে ভারতের ভারত বায়োটেক ও চীনের আইএমবি ক্যাম্পস

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৭ জুন, ২০২১ ০৩:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বঙ্গভ্যাক্সসহ তিন টিকার ট্রায়ালে নীতিগত সিদ্ধান্ত

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের করোনাভাইরাসের টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ এবং ভারত ও চীনের দুটি টিকার ট্রায়ালের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড রিসোর্স কাউন্সিল (বিএমআরসি)। গতকাল বুধবার এসংক্রান্ত এক সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রুহুল আমীন কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক, ভারতের ভারত বায়োটেক আর চীনের ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল বায়োলজি অব দ্য চায়নিজ একাডেমি অব মেডিক্যাল সায়েন্সের (আইএমবি ক্যাম্পস) টিকার ট্রায়ালে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। আগামী রবিবার নাগাদ বিষয়টি প্রতিষ্ঠান তিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে গ্লোব বায়োটেকের টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে বানর বা শিম্পাঞ্জিজাতীয় প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করে এর ফলাফল জমা দিতে বলা হয়েছে। এর পরই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। অন্যদিকে ভারত বায়োটেক ও চীনের আইএমবি ক্যাম্পসের টিকার হবে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল। ফলে তারা সরাসরি তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের প্রটোকল মেনেই কাজ শুরু করতে পারবে। ভারত বায়োটেক ও আইএমবি ক্যাম্পসের ট্রায়াল করবে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইসিডিডিআরবি)। আর গ্লোব বায়োটেকের টিকার ট্রায়াল করবে আলাদা একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে।

এর আগে প্রায় এক বছরে দেশে কয়েকটি টিকার ট্রায়ালের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে গিয়েও বিভিন্ন কারণে ভেস্তে যায়। এমনকি গ্লোব বায়োটেক ও ভারত বায়োটেকের ট্রায়ালের অনুমোদনের বিষয়টিও প্রায় পাঁচ মাস ঝুলে ছিল। প্রথমে এই টিকার নাম হয় ‘ব্যানকভিড’। পরে রূপান্তরিত নাম হয়েছে ‘বঙ্গভ্যাক্স’। যদিও এই নামও আবার পরিবর্তন হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গ্লোব বায়োটেক গত বছরের ২ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনের উদ্যোগের কথা। তারা প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের শরীরে এই টিকা প্রয়োগে সাফল্যের কথাও জানায়। এরপর পরবর্তী অনেক প্রক্রিয়া ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায়ও টিকা উদ্ভাবনের আবেদনকারী হিসেবে নাম লেখায় বাংলাদেশের এই টিকা। সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর তাদেরকে প্রস্তাবিত টিকার ট্রায়াল করতে প্রয়োজনীয় নমুনা টিকা উৎপাদনেরও অনুমতি দেয় গত ২৮ ডিসেম্বর। এরপর ১৭ জানুয়ারি ১০ হাজার পৃষ্ঠার প্রটোকল পেপার বিএম?আরসিতে জমা দেয় গ্লোব বায়োটেকের পক্ষে নিয়োজিত একটি গ্রুপ। আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন জার্নালে ওই টিকার প্রাণীদেহে কার্যকারিতার সাফল্য নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।

গ্লোব বায়োটেকের চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবশেষে আমাদের টিকার নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার জন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যত দ্রুত সময়ের মধ্যে পারা যায় বিএমআরসির চাহিদা অনুসারে বাকি প্রক্রিয়া শেষ করে কাগজপত্র জমা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে একই সঙ্গে মানুষ ও প্রাণীর দেহে ট্রায়াল করা যায় কি না, সেটা নিয়ে আমরা বিএমআরসির সঙ্গে আবারও আলোচনা করতে পারি।’

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ লাখ  টিকা আসবে আগস্টে

এদিকে দেশে টিকার সংকট কাটাতে সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গ্যাভি কোভ্যাক্সের মাধ্যমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার আরো ১০ লাখ ডোজ টিকা আগস্টে দেশে আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রী আরো জানান, চীনের সঙ্গে দেশের পক্ষ থেকে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। চীন থেকে ফিরতি জবাব এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে। এরই মধ্যে চীনের উপহার ছয় লাখ ভ্যাকসিনসহ বর্তমানে মজুদ ১১ লাখ ভ্যাকসিন থেকে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। পাঁচ লাখ মানুষ এই ১১ লাখ ভ্যাকসিন থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করবেন। ১৯ জুন থেকে আবার প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হবে।



সাতদিনের সেরা