kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

এক রোহিঙ্গা নারীর কাণ্ড

ওমর ফারুক   

১৬ জুন, ২০২১ ২০:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক রোহিঙ্গা নারীর কাণ্ড

এই শিশুর আসল নাম আজিজুর রহমান। তারই নাম পরিবর্তন করা হয়।

এক বছর আগে বিয়ে হয়েছে তার। রেশন পেতে অন্যের ছয় বছরের এক শিশুকে নিজের ছেলে বলে পরিচয় দিয়ে কক্সবাজার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে নাম নিবন্ধন করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে তিনি তার স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেন। সেই মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে ওই নারীর কোনো সন্তানই নেই। স্বামীকে ফাঁসাতে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রেশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্যই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। তার নাম রুজিয়া (২৬)। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে এ দেশে আসেন।

পিবিআই জানায়, রুজিয়া আশ্রয়শিবিরের (কার্ড নম্বর এফসিএন -১৩৪৬৮৮) বাসিন্দা। তিনি গত বছরের অক্টোবর মাসে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের মাধ্যমে উখিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন, তার স্বামীর সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জের ধরে গত বছরের ৭ অক্টোবর তার কাছ তার সন্তান মো. সোহেলকে (৬) নিয়ে যান। এ সময় তার স্বামীর সহযোগী করিম (৪০), শাহেদ (৩০), মুহিবুল্লাহ (৩০), হামিদ (৪০), শফি উল্লাহ (৩০), ফরিদ (২৭) নামের ব্যক্তিরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সোহেলকে নিয়ে যান।

এরপর উখিয়া থানার এসআই মনিরুল ইসলাম মামলাটি দীর্ঘ আট মাস তদন্ত করেন। তদন্তাধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন কক্সবাজার জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্ত করতে গিয়ে বাদী রুজিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে রুজিয়াকে পাওয়া যায়। পরে রুজিয়ার দেখানো মতে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইকবাল। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বাদী রুজিয়ার কোনো সন্তানই ছিল না। তিনি ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসেন।

জিজ্ঞাসাবাদে রুজিয়া জানান, তার স্বামীর সঙ্গে এক বছর ধরে যোগাযোগ নেই এবং তার ঠিকানাও জানা নেই। এমনকি এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করেছিলেন, তাদেরকেও তিনি চেনেন না। পরে তদন্ত কর্মকর্তা খুঁজে বের করেন রুজিয়ার স্বামী সেলিমকে (২৯)। সেলিম জানান, রুজিয়া তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তাকে তিনি ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। বিয়ের পর কুতুপালং রেজিস্টার্ড শরণার্থী ক্যাম্পের ব্লক নম্বর-এফ, শেড নম্বর- ৫৩, ঘর নম্বর-৩, থানা- উখিয়া জেলা- কক্সবাজারে বাদী রুজিয়া কিছুদিন বসবাস করেন। এরপর বছরখানেক আগে তিনি অন্য জায়গায় চলে যান। সেলিমের ঘরে রুজিয়ার কোনো সন্তানাদি হয়নি। তার প্রথম স্ত্রী জমিলার গর্ভে এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। তার ছেলের নাম আজিজুর রহমান। রুজিয়ার এফসিএন কার্ডে থাকা ছবি সেলিম ও তার প্রথম স্ত্রী জমিলার সন্তান আজিজুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা সাত বছর বয়সী আজিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। সে জানায়, অনেক দিন আগে তার সৎমা রুজিয়া তাকে কাপড় কিনে দেবেন বলে নিয়ে গিয়ে ছবি তুলে নেন। পরবর্তী সময়ে বাদী আজিজুর রহমানকে নিজের সন্তান মো. সোহেল নাম দিয়ে কার্ড করেন।

পিবিআই কক্সবাাজার জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা গভীরভাবে মামলাটি তদন্ত করি। মামলার বাদীর কথিত ঘটনাস্থলটি ভুয়া। মামলার বাদী মামলা করার পর নিজেকে গোপন রাখার জন্য বারবার নিজের ঠিকানা পরিবর্তন করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মতে ভিকটিম ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে মামলার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, রুজিয়ার প্রতারণার বিষয়টি তারা ক্যাম্প ইনচার্জকে জানিয়েছেন। এ ছাড়া রুজিয়ার দায়ের করা মিথ্যা মামলার পুরো বিষয়টি তারা আদালতকে জানাবেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।



সাতদিনের সেরা