kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

অর্থপাচার নিয়ে সংসদে সোচ্চার জাতীয় পার্টি-বিএনপি

অর্থমন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুন, ২০২১ ১৯:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থপাচার নিয়ে সংসদে সোচ্চার জাতীয় পার্টি-বিএনপি

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আলোচনায় অর্থপাচার বন্ধ না হওয়ায় কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা। এ সময় সংসদের বৈঠকে অর্থমন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির সদস্য পীর ফজলুর রহমান।

বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, ইকবাল হোসেন, ইউসুফ আব্দুল্লাহ, নাদিরা ইয়াসমিন, নাহিদ এজহার খান, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও পীর ফজলুর রহমান, বিএনপির মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

আলোচনার শুরুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে পীর ফজলুর রহমান বলেন, আমরা বাজেট বক্তৃতা দিচ্ছি। কিন্ত অর্থমন্ত্রী নাই। গতকালও (মঙ্গলবার) আমরা তাকে সংসদে পাই নাই। তিনি বলেন, দেশ থেকে কারা টাকা পাচার করছে, সে তালিকা অর্থমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের কাছে চান। সংসদ সদস্যরা কীভাবে তালিকা দেবে। তিনি অর্থ মন্ত্রণালের দায়িত্বে। তিনি তালিকা দেবেন কারা অর্থপাচার করে। পিকে হালদার টাকা নিয়ে বিদেশে গিয়ে ঘুমায়, আর তার বান্ধবীদের এখানে জেলে ঘুম পড়ান। এটাতো আমরা চাই নাই। আমরা চেয়েছি পিকে হালদারদের মতো লোকরা যেন অর্থ নিয়ে বাইরে যেতে না পারে।
পীর ফজলুর রহমান বলেন, প্রত্যেকটা অডিট রিপোর্টে আছে, কীভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। সেখান থেকে তিনি কারা টাকা পাচার করে তথ্য নিতে পারেন। সিএজির গত চার বছরের অডিট প্রতিবেদন বলছে, ৩১ হাজার কোটি টাকা লুট। চার বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে জালিয়াতি, সরকারি অর্থের মোট অনিয়মের ৫২ শতাংশই ব্যাংকিং খাতে। গত ৯ বছরে অনিয়ম বেড়েছে ১৬ গুণ। এটি অডিটর জেনারেলের চার বছরের অডিট রিপোর্ট থেকেই এসেছে। এখান থেকে উনি পান না কেন? এই টাকা বিদেশে যায়।

শেয়ার বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে বিরোধী দলীয় এই সদস্য বলেন, আমাদের শেয়ার বাজারে লুটপাট হয়, অর্থমন্ত্রী খুঁজে পান না। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, পাঁচ বছরে এক হাজার ২৪টি অর্থপাচারের ঘটনার প্রমাণ মিলছে। এটাতো সরকারি প্রতিষ্ঠানেরই তথ্য। তাহলে মন্ত্রী পান না কেন? তাই সাফাই না গেয়ে যারা দুর্নীতি করছে তাদেরকে ধরেন। এই করোনাকালে এসে অন্ততঃ বিবেক জাগ্রত হোক। এই দুর্নীতিবাজদের ধরেন। অবৈধ টাকাকে কখনোই সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষায় কর ও মোবাইলে অর্থ লেনদেনে করারোপের সমালোচনা করেন পীর ফজলুর রহমান। তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, মানুষের চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেন। টিকা নিয়ে আমরা কোনও কথা শুনতে চাই না। টিকা নিশ্চিত করতে চাই। মানুষ যদি টিকা না পায়, মানুষ যদি না বাঁচে, তবে বাজেট বাস্তবায়ন হবে কীভাবে? টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, বাজেটে ঘাটতির টাকা কোথা আসবে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ঋণের সুদই দিতে হবে ৬৯ হাজার কোটি টাকা। এরপর অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থপাচার চলছে। তিনি বলেন, টিকার দাম বলে দেওয়ায় গত ৬ জুন একজন অতিরিক্ত সচিবকে ওএসডি করা হয়েছে। মানুষের করের টাকায় টিকা কেনা হচ্ছেছ, দাম জানার অধিকার মানুষের আছে। এ জন্য একজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করার ঘটনা দুঃখজনক। শুধু একটি নয়, অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও টিকার জন্য আলোচনা করার দরকার ছিল। শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এমপি মোশাররফ বলেন, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এতো বাজে অবস্থা, সেখানে যাওয়া যায় না। গেলে নাকে রুমাল দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। কিছু দরপত্র হলেও কাজ হচ্ছে না। মানুষ ফোন দিয়ে গালিগালাজ করে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।



সাতদিনের সেরা